আর ডেঙ্গু নয়, রাজ্যের নতুন আতঙ্ক স্ক্রাব টাইফাস, কী করে বাঁচবেন এর হাত থেকে


Odd বাংলা ডেস্ক: আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না রাজ্যের। একের পর এক মারণ থাবা বসাচ্ছে আমাদের উপর। কদিন ধরেই ডেঙ্গু জাকিয়ে বসেছে শহরের কোলে। বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলেই নাজেহাল এই ডেঙ্গু নিয়ে। পুরসভা থেকেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ডেঙ্গুর প্রতিকারে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছে ও বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও মিলেছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে।

এনিয়ে পুরসভা থেকে বাড়বার প্রচার করা হয়েছে যাতে জল না জমে, সকালে যাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমায়, তিনদিনের বেশি জ্বর থাকলে রক্ত পরীক্ষা করা, এসব। কিন্তু ডেঙ্গু তাও পিছু ছাড়েনি। ডেঙ্গুর ঝামেলা কিছুটা শিথিল হতে না হতেই আরও এক নতুন রোগের আতঙ্ক ছরাল শহর কলকাতায়। সেটি হল স্ক্রাব টাইফাস।

কি এই স্ক্রাব টাইফাস ? টাইফাস হল এক ধরনের জ্বর যা ব্যাকটিরিয়া ঘটিত। এই জ্বরের জন্য দায়ী অবলিগেট ইন্সট্রাসেলুলার ব্যাকটিরিয়া। এরা জীবন্ত কোষের বাইরে বাঁচে না। এই জীবাণু মুলত ছড়ায় বাহ্যিক পরজীবীর উপর নির্ভর করে। অধিকাংশ মানুষই এই রোগের নাম আগে শোনেনি।

ইতিমধ্যে দু-একজন আক্রান্ত হয়েছে শহরে, তবে জেলায় এর প্রকোপ বেশি। লাল পোকার কামড় না কোনো জ্বর তা নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন খুব খারাপ না হলেও এনিয়ে যথেষ্ট ততপর কলকাতা পুরসভা। রোগটা কি ? এর থেকে বাচার উপায় কি ? এসব নিয়ে জনগনকে সর্তক করা হচ্ছে।

মাইট নামে ক্ষুদ্র একটি জীব কামড়ালে এই ব্যাক্টিরিয়া ঘটিত জ্বর হয়। এর জন্য দায়ী ওরিয়েনসিয়া শুশুগামুসি নামে এক ব্যাকটিরিয়া। দেখতে ছোট পোকার মত হলেও এটা কোনো পোকা নয়। এটা একটা লার্ভা, এর থেকে রোগটা ছড়ায়।

প্রচন্ড মাথাব্যথা, হাই ফিভার, সেটা কখনও কখনও ১০৪ পর্যন্ত উঠে যায়। পিঠে বুকে প্রচন্ড পরিমানে র‍্যাশ বেরিয়ে যাওয়া, উজ্জল আলো সহ্য করতে না পারা, লো ব্লাড প্রেশার, পেশিতে প্রচন্ড ব্যাথা, এসব হল স্ক্রাব টাইফাস জ্বরের লক্ষন। সঠিক সময় এই রোগের চিকিৎসা না হলে সমস্ত অরগ্যন কাজ করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সুত্রের খবর এখনও পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে স্ক্রাব টাইফাসের কারনে। মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের তরুণ সরকার নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজে, আর কিছুদিন আগে গড়িয়ার এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে স্ক্রাব টাইফাসে।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.