ফাঁসি দিতে তিহার জেলে হাজির পবন জল্লাদ, জানুন এই পবন আর কাকে ফাঁসি দিয়েছেন
Odd বাংলা ডেস্ক: তিহার জেলে হাজির হয়েছেন পবন জল্লাদ। এই পবনই নির্ভয়াকাণ্ডের ৪ আসামিকে ফাঁসি দেবেন। পবন জল্লাদের ছোট্ট পরিবার। ২ ছেলে স্ত্রীকে নিয়ে সে মেরাটে থাকে। আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই জীবন যাপন করে সে। কিন্তু তার কাজ সাধারণ নয়। সে ফাঁসি দেয়। পেশায় সে একজন জল্লাদ। ১৯৮৭ সালে পবনের ঠাকুরদাও জল্লাদ হিসেবে কাজ করতেন। এবং ঠিক তখন তিনি ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকারীকে ফাঁসি দিয়েছিলেন। ছোটো থেকেই পবন স্বপ্ন দেখতেন যে তিনি বড়ো হয়ে জল্লাদ হবেন। ঠাকুরদার মতো তিনিও ফাঁসি দেবেন। নিথারি হত্যাকান্ডের কথা কী আপনাদের মনে আছে ? সেই মনিন্দর সিং পন্দের যে শিশুদের খুন করে তাদের মাংস খেতো, তারও ফাঁসি দিয়েছিলেন এই পবন জল্লাদই।
ফাঁসির দড়ি তৈরি করছে পবন জল্লাদ, Image Source: 101india.com
পবনের পরিবার ১৯৫১ সাল থেকে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। সেই থেকে তাঁরা ফাঁসি দিয়ে আসছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে গিয়ে। আসলে এই পেশাকে সাধারণ মানুষ বর্বর মনে করে। কিন্তু কাউকে তো এই কাজ করতে হবে। সেখানেই দরকার পবনের মতো মানুষদের। যারা ফাঁসি দিতে রাজি হবে। মাত্র ২২ বছর বয়স থেকে ঠাকুরদার হাত ধরে পবনের হাতে খড়ি এই কাজে। পবন এই কাজকে যে খুব আনন্দ সহকারে করেন তা নয়। তবে তাঁর মতে কাউকে তো এই কাজ করতে হবে? তাই তার পরিবার এই কাজে এগিয়ে এসেছে।
পবনের ছেলে চায় না একজন জল্লাদ হতে, তার ইচ্ছে সে অন্য কাজ করবে, Image Source: 101 India
নিজের জীবনের কিছু ভয়ঙ্কর ইতিহাসের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন এলাহাবাদে ঘটা একটি ঘটনার। এক আসামি কিছুতেই ফাঁসি কাঠে চাপতে চাইছিলো না। এদিকে ফাঁসির সময় এগিয়ে আসছিল। অবশেষে ২ কন্সেটবল জোর করে তাকে ধরে নিয়ে আসে। ফাঁসির জন্য তাকে তৈরি করে। আসামি বারে বারে বলছিল সে মরতে চাই না। কিন্তু অবশেষে তার গলায় দড়ি পরিয়ে পবন লিভার টেনে দেন। এবং তখনই সেই আসামি শূন্যে ঝুলতে থাকে। কিছুক্ষণ ছটফট করতে থাকে সেই আসামি এবং অবশেষে সে মারা যায়।
পবন জল্লাদ আরও শোনালেন ফাঁসির কিছু নিয়ম,
ফাঁসির সকালে ঠিক ভোর ৫টার সময় আসামিকে ঘুম থেকে তুলে দেওয়া হয়। এবং ঠিক পৌনে ৬টা নাগাদ ফাঁসির মঞ্চে তোলা হয়। আর সকাল ৬টা নাগাদ ফাঁসি দেওয়া হয়। লিভার টানার পর আসামি ছটফট করতে থাকে ১৫ মিনিট। তারপর তাঁর মৃত্যু হয়। তারপর ডাক্তার এসে তাকে পরীক্ষা করে। এবং ১০ মিনিট পর সাধারণত তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
পবন আরও জানালেন যে তিনি চান তার ছেলে জল্লাদ হোক। কিন্তু তাঁর ছেলে সেটা চায় না। ছেলে নাকি তাকে বলেছে যে আমি বড়ো হয়ে আপনার এই কাজ করব না। আমি অন্য কাজ করব।
ভারতে এখন কমে আসছে ফাঁসির সাজার পরিমান, ফলে পবনদের পকেটে পড়তে পারে টান, Image Source: Google
এরকম আরও খবরের জন্য পড়ুন oddbangla.com
তথ্য সূত্র: 101India





Post a Comment