মদ‍্যপান করে গাড়ী চালিয়ে কুতুব মিনারে ধাক্কা, মদ বিক্রি শুরুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনা

Qutub-Minar-i-Stock-179542718


Odd বাংলা ডেস্ক: সোমবার থেকেই লকডাউনের তৃতীয় দফায় ভারতে মদ বিক্রি শুরু হয়েছে। আর প্রথম দিনই রাজধানি দিল্লিতে চরম অঘটন ঘটে গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা গিয়েছে ওই দিন ভোর প্রায় সাড়ে ৪ টা নাগাদ ৩১ বছরের এক ব্যক্তি সম্পূর্ণ মদ্যপ অবস্থায় কুতুব মিনারের প্রাচীরে গাড়ি নিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। এতটাই জোরে সে ধাক্কা মেরেছিল, যে তার গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এতে হেরিটেজ সাইট হিসাবে ঘোষিত প্রাচীন সৌধটির প্রাচীরের প্রায় ৫০ মিটার মতো এলাকার ক্ষ’তি হয়েছে। ম’দ্যপ অবস্থায় ছিলেন গাড়ির চালক অরুণ চৌহান। ম’দ্যপা’ন করে বেপ’রোয়া গাড়ি চালানোয় ক্ষ’তিগ্রস্ত হয় এ মিনার। দুর্ঘ’টনায় সামান্য আ’ঘাত লাগে তার।

পু’লিশ তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছে। গাড়িতে আগুন লেগে যাওয়ায় দমকল ডাকতে হয়। মেহরৌলি থা’নায় অভিযোগ দায়ের করেছে। যে পরিমাণ ক্ষ’তি হয়েছে তা মেরামতের পুরো অর্থ চালককে জরিমানা করার দাবি জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি তার কড়া শা’স্তিরও দাবি জানানো হয়েছে। দিল্লির সুপারিনটেনডিং আরকিওলজিস্ট গুঞ্জন শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনার পর কুতুব মিনারে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে একটি দল মোতায়েন করা হয়েছে। হেরিটেজ সাইটের বাইরে থেকে অবিলম্বে ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।’

প্রখ্যাত সুফি কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় এই মিনারের। ভারতীয় মুসলিম স্থাপত্যকীর্তির গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে কুতুব মিনার গুরত্বপূর্ণ। ভারতের প্রথম মুসলমান শাসক কুতুবুদ্দিন আইবেকের আদেশে কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দে, তবে মিনারের উপরের তলাগুলোর কাজ সম্পূর্ণ করেন ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৮৬ খ্রিষ্টাব্দে। এই কমপ্লেক্সটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে তালিকাবদ্ধ হয়েছে এবং এটি দিল্লির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। এটি ২০০৬ সালে সর্বোচ্চ পরিদর্শিত সৌধ, পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩৮.৯৫ লাখ যা তাজমহলের চেয়েও বেশি, যেখানে তাজমহলের পর্যটন সংখ্যা ছিল ২৫.৪ লাখ।

মদ্যপান করে গাড়ি চালালেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। কোনও কোনও সময় বিপুল অঙ্কের জরিমানা, কখনও আবার হাজতবাস করতে হয়েছে দোষীদের। তবে এই ঘটনা ভারতে লকডাউন বিধির মধ্যে বড় ফাঁক প্রকাশ করে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। করোনাভাইরাস মহামারি ঠেকাতে লকডাউন জারি করা হয়েছে। সেই সময় গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ারই কথা নয়। তারপরেও সে কীভাবে পুলিশের নজর এড়িয়ে অত জোরে গাড়ি চালাচ্ছিল, কুতুব মিনার সংলগ্ন এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সেই প্রশ্ন উঠছে।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.