বলিউডের সেই বোল্ড বিউটিকে মনে আছে, প্রথম সারির অভিনেত্রীদের মধ্যে উঠে এসেছিল তাঁর নাম
Odd বাংলা ডেস্ক: ৮৯-এ শিল্পার পরের ফিল্ম ছিল রাকেশ রোশনের পরিচালনায় ‘কিষান কানহাইয়া’। অনিল কপূর, মাধুরী দীক্ষিতের পাশে লিড রোলে রীতিমতো নজর কেড়েছিলেন শিল্পা শিরোদকর। ওই ফিল্মের একটি গান ‘রাধা বিনা’ তো সে সময় তুমুল হিট। অনিল কপূরের সঙ্গে ভেজা শাড়িতে শিল্পার সে গানের দৃশ্যও দেখে অনেক দর্শকও বলাবলি শুরু করেছিলেন, বলিউডের পরবর্তী বোল্ড বিউটি শিল্পাই!
‘কিষান কানহাইয়া’-র পর থেকে শিল্পা শিরোদকরের কাছে একের পর এক বোল্ড সিনের দৃশ্যে অভিনয়ের অফার আসতে শুরু করে। আর প্রায় প্রতিটি ফিল্মে একটি করে বৃষ্টিভেজা গানের দৃশ্য থাকাটা যেন রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পা শিরোদকরের তখন একটা বোল্ড ইমেজ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সে সময়ই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও চর্চা শুরু হয় গসিপ ম্যাগাজিনগুলোতে। ম্যানেজার রিকু রাকেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয়েছিল জোর জল্পনা। বিবাহিত রিকু রাকেশের সঙ্গে বহু জায়গায় দেখা যেতে থাকে শিল্পা শিরোদকরকে। তা নিয়ে এক সময় কম জলঘোলা হয়নি। একটা সময় রিকুর স্ত্রী দেখা করেন শিল্পার সঙ্গে। তবে রিকুর সঙ্গে তথাকথিত সম্পর্ক অস্বীকার করেন শিল্পা।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এই জল্পনার মাঝেই শিল্পার জীবনে আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। কেরিয়ারের শুরুতে শাওন কুমার টাকের যে চুক্তি ভেঙে ফিল্মে অভিনয় করেছিলেন শিল্পা, তার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পথে যাওয়ার হুমকি দেন প্রযোজক-পরিচালক। সেই সঙ্গে শাওন এ-ও বলেন, শিল্পার সমস্ত গোপন কথা মিডিয়াতে ফাঁস করে দেবেন।
কী গোপন কথা? আসলে রিকু রাকেশের সঙ্গে শিল্পার সম্পর্কের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শাওন কুমার টাক। তবে রিকুই সে সময় শিল্পাকে বোঝান, শাওন কুমারের সঙ্গে ফিল্মে অভিনয় করতে রাজি হতে যেতে। যদিও শেষমেশ শিল্পা রাজি হলেও শাওন কুমার তাঁকে নিজের ফিল্মে কাজ করাননি। সেখানেই সে অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
এর পর একের পর এক হিট ফিল্মে দেখা গিয়েছিল শিল্পা শিরোদকরকে। তবে ‘পাপ কি কামাই’, ‘যোদ্ধা’, ‘হম’, ‘গোপী কিষান’-এর মতো হিট ফিল্মে দেখা গেলেও কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন শিল্পা। এক সময় রিকুকে বাদ দিয়ে মুকুল আগরওয়ালকে ম্যানেজার হিসাবে নিয়োগ করলেও তাঁর সঙ্গেও শিল্পার সম্পর্ক নিয়ে বলিউডে জল্পনা শুরু হয়। সে সময় রিকুই সে জল্পনার অবসান করেন। যদিও শিল্পার থেকে তত দিনে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে দিয়েছিলেন রিকু।
নিজের বোল্ড ইমেজ ছেড়ে এক সময় প্রকাশ ঝা-র ‘মৃত্যুদণ্ড’ বা এম এফ হুসেনের ‘গজগামিনী’-র মতো ফিল্মও করেছিলেন শিল্পা। তবে সে সব ফিল্মে তেমন সাফল্যের মুখ দেখেননি তিনি। এর পর ২০০০ সালে হঠাৎই ইন্ডাস্ট্রি থেকে যেন গায়েব হয়ে যান শিল্পা। সে বছরই ব্যাঙ্কার অপরেশ রঞ্জিৎকে বিয়ে করেন তিনি। এর তাঁর সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে বসবাস শুরু। একটি মেয়েও রয়েছে তাঁদের। এর পরেও অভিনয়ে দেখা গিয়েছিল শিল্পাকে। প্রায় ১৩ বছর পর। ‘এক মুট্ঠি আসমান’, বা ‘সিলসিলা প্যায়ার কা’-র মতো টেলি-সিরিয়ালে। মরাঠি ফিল্মেও প্রযোজনা করেছিলেন তিনি। তবে কোনও জায়গাতেই যেন বেশি দিন টিকে থাকেননি শিল্পা।





Post a Comment