ভারতের এই মন্দিরে বাস করে প্রায় ২০ হাজার ইঁদুর, মন্দিরের নেপথ্যের কাহিনি জানলে চমকে যাবেন
ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়, Odd বাংলা: ভারতবর্ষে ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে বিখ্যাত সব কাহিনি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত মন্দিরের ইতিহাস এবং সেই মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গল্প-কাহিনি শুনলে খুবই অবাক হতে হয়। তেমনই এক মন্দির হল রাজস্থানের কার্নি মাতা মন্দির। মন্দিরটি রাজস্থানের বিকানের থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে দেশনোকে অবস্থিত। মন্দিরটি সারা ভারতবর্ষে বিখ্যাত হওয়ার কারণ হল মন্দিরটিতে প্রায় ২০ হাজার কালো ইঁদুর বসবাস করে এবং তাঁদের কেউ উত্যক্ত করেন না, বরং মন্দিরে মুশিককূলকে যথেষ্ঠ শ্রদ্ধা করা হয়। তাদের অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয় এবং 'কাব্বাস' নামে সম্বোধন করা হয়।
জানলে অবাক হবেন বগু মানুষ কেবল এই মন্দিরে আসেন কেবল এই ইঁদুরদের দর্শনে, তাঁরা মনে করেন, এই ইঁদুরগুলিকে সম্মান করলেই তাঁদের সকল মনোষ্কামনা পূরণ হবে। মন্দির নির্মাণশৈলি মুঘল ঘরানার। মহারাজা গঙ্গা সিংহ দ্বারা নির্মিত এই মন্দিরটির দরজাগুলি রুপোর তৈরি। আরও একাধিক রুপোর দরজা রয়েছে, যার মধ্যে বিভিন্ন দেবীর ছবি খোদাই করা।
মন্দিরের নেপথ্যের কাহিনি-
এখন আপনার মনে হতেই পারে এই মন্দিরের সঙ্গে ইঁদুরের যোগ কোথায়? ইঁদুর তো গণেশের বাহন। কিন্তু এই মন্দিরে কো গণেশের আরাধনা করা হয় না, তাহলে এখানে ইঁদুরের এত কদর কেন? আসলে কার্নি মাতা ছিলেন একজন হিন্দু সন্যাসিনী। তাঁকে সবাই মা দুর্গার একটি রূপ বলেই পুজো করতেন। যোধপুর এবং বিকানেরের রাজ পরিবারের আরাধ্য দেবীই এই কার্নি মাতা।
কথিত আছে, চোদ্দ শতক পর্যন্ত কার্নি মাতা জীবিত ছিলেন আর তাঁর জীবদ্দশায় তিনি অনেক অলৌকিক কাজকর্ম করে গিয়েছেন। ১৫৩৮ সালে, ১৫১ বছর বয়সে কার্নি মাতা উধাও হয়ে যাওয়ার পরে এই কার্নি মাতার মন্দিরটি নির্মিত হয়। কিন্তু মন্দিরের সঙ্গে ইঁদুর যোগ নিয়ে দু’টি গল্প শোনা যায়।
অন্য কাহিনি অনুসারে, কোনও এক যুদ্ধের সময়ে কুড়ি হাজার সেনার একটি বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে দেশনোক এলাকায় আশ্রয় নেন। যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে আসার শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। কার্নি মাতা তখন তাদের ইঁদুরে রূপান্তরিত করে মন্দিরে আশ্রয় দেন।
কিভাবে যাবেন-
মন্দিরে পৌঁছানো আজকাল মোটেও সমস্যার কিছু নয়, কারণ শহরটি একাধিক পরিবগম ব্যবস্থা যেমন বাস, ট্রেন এবং ট্যাক্সি-র সঙ্গে সহজেই যুক্ত এবং মন্দিরের দিকে যাওয়ার রাস্তাটি খুবই ভাল।
মন্দিরের সময়সূচী-
মন্দিরটি ভোর ৪টের সময়ে সকলের জন্য উন্মুক্ত হয়। সেই সময়ে পুজো ও আরতিও করা হয়, যা দেখতে প্রচুর ভক্তবৃন্দ উপস্থিত থাকেন। রাত দশটার সময়ে মন্দিরটি বন্ধ হয়ে যায়। মন্দিরের কোনও প্রবেশমূল্য নেই।
বিভিন্ন উৎসব এবং মেলা চলাকতালীন মন্দির দর্শনের সেরা সময়। এছাড়াও যেকোনও সময়ে মন্দির দর্শনের সুযোগ মেলে।





Post a Comment