ইলেক্ট্রিসিটি ছাড়াই কেটেছে তার ৭৯ বছর!
Odd বাংলা ডেস্ক: প্রচন্ড খরতাপে জনজীবন যখন অতীষ্ট। ফ্যান তো দূরে থাক, এসি ছাড়া দু’মিনিট টেকা দায় হয়ে উঠেছে। ইলেকট্রিসিটির এই অপার মহিমায় অনেকেই ভুলতে বসেছেন যে বছর কয়েক আগেও এমন ঘরে ঘরে এসি ছিল না। তারও আগে ছিল বিদ্যুতও। তবে এই আধুনিক পৃথিবীর বাসিন্দা হয়ে সামর্থ্য থাকা সত্বেও বছরের পর বছর বিদ্যুৎ ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন ৭৯ বছরের বৃদ্ধা। স্বেচ্ছায় বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন প্রাক্তন এই অধ্যাপিকা।
হেমা সানে থাকেন পুণের বুধওয়ার পেঠে। বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার পিছনে তার একমাত্র কারণ হল প্রকৃতি এবং পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা। হেমা বলেন, ‘খাদ্য, আশ্রয় এবং পোশাক আমাদের ন্যুনতম চাহিদা। এক সময়ে তো বিদ্যুৎ ছিলনা, অনেক পরে মানুষ বিদ্যুৎ পেয়েছে। আমি বিদ্যুৎ ছাড়াই দিব্যি আছি।’আরো মজার বিষয় হলো, হেমা সানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী তাঁর কুকুর, দুই বিড়াল, এক নেউল এবং অনেক অনেক পাখি। তার মতে, ‘এটা ওদেরই সম্পত্তি, আমার নয়। আমি ওদের দেখাশোনা করার জন্য এখানেই আছি। মানুষ আমাকে বোকা বলে, আমি উন্মাদ হতেই পারি কিন্তু এটা আমার কাছে কোনো ব্যাপার নয় কারণ এটাই আমার জীবনের ‘অদ্ভুত’ পথ। আমি যেমন পছন্দ করি তেমনই জীবন যাপন করতে পারি।’
সাবিত্রীবাঈ ফুলে পুণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোটানিতে পিএইচডি করেন এবং তিনি বহু বছর ধরেই পুণের গারওয়ারে কলেজে পড়িয়েছেন। বুধওয়ার পেটের একটি ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে বসবাস করেন তিনি। একগুচ্ছ গাছ আর পাখি ঘিরে আছে সেই ঘর। পাখীর সুরেই ঘুম ভাঙে তার। উদ্ভিদবিদ্যা ও পরিবেশ বিষয়ে ডাঃ হেমা সানে অনেক বইও লিখেছেন। এমনকি আজো, যখনই তিনি তার বাড়িতে একা থাকেন তখনই তিনি নতুন বই লেখেন। পরিবেশ সম্পর্কে তার গবেষণা এমনই যে, কোনো পাখি বা বৃক্ষ তার কাছে অজানা নয়।
ডাঃ হেমা সানে বলেন, ‘আমি আমার সারা জীবনে বিদ্যুতের তেমন কোনও প্রয়োজন বোধ করিনি। লোকেরা প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করে যে আপনি কীভাবে বিদ্যুৎ ছাড়াই বাঁচেন এবং আমি ওদের পালটা জিজ্ঞেস করি বিদ্যুৎ নিয়ে আপনি কীভাবে থাকেন?’তার কথায়, ‘এই পাখিরাই আমার বন্ধু এবং যখনই আমি বাড়ির কাজ করি তখনই ওরা আসে। আর যারা তাকে পাগল বলে, তাদের জন্য হেমা বলেন, ‘আমি কাউকে কোনো বার্তা বা শিক্ষা দিতে চাইনা। শুধু বুদ্ধের বিখ্যাত কথাটাই বলতে চাই, নিজের জীবনের পথ নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে।’





Post a Comment