যৌনাসক্তির নাম ভাইব্রেটর

Odd বাংলা ডেস্ক: ভাইব্রেটর বা যৌন খেলনা প্রথম প্রথম ছিল মাংসল, গোলাপি, এবং অশ্লীল। যার ফলে অধিকাংশ লোকই এগুলো কিনতে অমত করতেন। অনেকটা প্রাণীর মতো দেখতে র‍্যাবিট ভাইব্রেটর কম্পন সৃষ্টির মাধ্যমে কাজ করে। মার্কিন টিভি সিরিয়াল সেক্স এ্যান্ড দি সিটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর ১৯৯৮ সালে একটি পর্ব উৎসর্গ করা হয় এই র‍্যাবিটের উদ্দেশ্যে। এরই সুবাদে এই র‍্যাবিট যৌন খেলনা থেকে সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হয়। 

এরপর থেকে এটি সমাজের মূলধারায় চলে আসায় ধারণা করা হচ্ছে যে, ২০২০ সাল নাগাদ প্রাপ্তবয়স্কদের খেলনার কেনাবেচা ২ হাজার ৯শ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। প্রতি ভাইব্রেটরের  দাম পড়বে ১২০ পাউন্ডের মতো। হীরে বসানো সবচেয়ে দামি যে ভাইব্রেটর, তার দাম দশ লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি। আগেকার যুগে ভাইব্রেটর ছিল একটা গোপন ব্যাপার। কিন্তু আশির দশকে র‍্যাবিট নামে যে ভাইব্রেটর চালু হলো, তারপরই জিনিসটা সমাজের মূলধারায় ওঠে আসে।

১৭ বছর বয়সে কুমারীত্ব হারানো তরুণী লিয়ান (ছদ্মনাম) ২১ বছর বয়সে বার্মিংহ্যাম থেকে  তার প্রথম ভাইব্রেটরটি সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি জাজান, জিনিসটা বড় দারুণ দেখতে। পাথুরে রঙ আর গোলাপী-সোনালী বোতাম। এটা দেখতে মোটেও পুরুষাঙ্গের মতো নয়। বরং বেশ অভিজাত চেহারার।

কুমারিত্ব হারানোর পর বেশ কয়েকজন ছেলেবন্ধুর সাথে যৌন সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু কখনো চরম যৌনতৃপ্তি বা অরগ্যাজম হয়নি। কেবল এক ধরণের উত্তেজনা বা আনন্দ উপভোগ করেছেন। সত্যিকার অরগ্যাজমের স্বাদ পাননি বলে জানান তিনি। একসময় তার মনে দুশ্চিন্তা দেখা দিতে শুরু করল- কেন তার এটা হচ্ছে না! এসব নিয়ে তার বন্ধুরা এমনভাবে গল্প করতো যে প্রতিবারই যেন তারা চরম তৃপ্তি পাচ্ছে। তিনি ব্যাপারটা খুলে বললেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে। বন্ধুর পরামর্শে এক শনিবার বিকেলে তিনি চলে গেলেন শহরে। কিনে আনলেন ভাইব্রেটর। সেটা ব্যবহার করে অরগ্যাজমের স্বাদ পেয়েছেন।


ভাইব্রেটর কি মেয়েদের দুশ্চিন্তা দূর করতে পারে?

নারীদের হিস্টিরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে ডাক্তাররাই উদ্ভাবন করেছিলেন এই ভাইব্রেটর। হিস্টিরিয়া বলতে মূলত উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হওয়া বোঝায়। ডাক্তাররা মনে করতেন চরম যৌনতৃপ্তির মধ্যে দিয়ে এর উপশম ঘটানো সম্ভব। লিয়ান নিজেও ব্যাপারটা বুঝতে পারেন। তার কথায়, যেহেতু এখন আমার নিয়মিত অর্গ্যাজম হচ্ছে তাই আমার দুশ্চিন্তা অনেক কমে গেছে।

যৌন খেলনা কি নেশা?

লিয়ান বলেন, আমি আমার বিছানায় ভাইব্রেটরটা রাখতাম এবং প্রতিদিনই ওটা ব্যবহার করতাম। আমার মনে হয়েছিল, যৌন অনুভূতির দিক থেকে এটা ছিল একটা খুবই ইতিবাচক পদক্ষেপ। ৭ বছর পর এখন লিয়ান সেই জিনিসটাই ব্যবহার করছেন সপ্তাহে কয়েকবার। কিন্তু এখন তার মনে প্রশ্নের উদয় হচ্ছে যে, যৌন তৃপ্তির জন্য তিনি কি ওটার ওপর নির্ভরশীল বা ওটাতে আসক্ত হয়ে পড়ছেন ? কারণ ঠিক ওই ভাইব্রেটরটি ছাড়া এবং ওই একই ভঙ্গিতে ছাড়া অন্য কোনভাবে তিনি অরগ্যাজম লাভ করতে পারছেন না। তার ভাষায়, মনে হচ্ছে যেন আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি। কিন্তু তারপর আর আগে বাড়তে পারছি না।

ব্রিটেনের রয়াল কলেজ অব অবস্ট্রেট্রিশিয়ানস এ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস এর ড. লেইলা ফ্রডসহ্যাম বলেন, কোন নারী যদি মাত্র একটি যৌন খেলনা বা একটি মাত্র শারীরিক পজিশনে অরগ্যাজম লাভ করতে পারেন, এতে দুশ্চিন্তার কিছুই নেই। একজন নারী একাধিক উপায়েই এ তৃপ্তি লাভ করতে পারেন। সেক্স টয় পরীক্ষক ভেনাস বলেন, তিনি এ ক্ষেত্রে তার ফ্যান্টাসি বা যৌন-কল্পনাকে ব্যবহার করেন। আগে তিনি দিনে ৫/৬ বার স্বমেহন করতেন । কিন্তু এখন তিনি করেন দিনে একবার। ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা ধরে। তার ভাষায়, তার কাছে অভিজ্ঞতাটা অনেকটা মেডিটেশন বা ধ্যানের মতো।

লিয়ানের বয়স এখন ২৮ বছর। তার এখনকার সঙ্গীর সাথে তিনি আছেন ৫ বছর ধরে। তার যৌন জীবনে তিনি সুখী। তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম আমার সঙ্গী হয়তো এই ভাইব্রেটর নিয়ে কোন সমস্যা বোধ করবে। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি। ওটা আমরা যৌনমিলনের আগে ব্যবহার করি। যৌন খেলনার প্রতি আসক্তির কথা শুধু যে লিয়ান একাই বলছেন তা নয়। ২০১৬ সালে ডেড ভ্যাজাইনা সিনড্রোম নামে একটা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। বলা হচ্ছিল মহিলারা অতিমাত্রায় ভাইব্রেটর ব্যবহার করলে এরকম অনুভূতিহীনতা সৃষ্টি হতে পারে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচুর হৈচৈ হয়। কিন্তু মেডিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোন প্রমাণ মেলেনি।

যৌনাসক্তির নাম ভাইব্রেটর যৌনাসক্তির নাম ভাইব্রেটর Reviewed by Odd Bangla Editor on অক্টোবর ০১, ২০২০ Rating: 5
Blogger দ্বারা পরিচালিত.