নিজের শরীর ২৭ হাজার টুকরো করার ব্যবস্থা করল নারী নিজেই
Odd বাংলা ডেস্ক: মানুষের মৃত্যুর আগে তার শেষ ইচ্ছার কথা তার পরিবারের কাছে বলে যান। একেকজনের ইচ্ছা আলা হয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবে মানুষের শেষ ইচ্ছ থাকে যাতে তার সম্পত্তির মালিকানা কে পাবে সে বিষয়ে কিংবা নিজের অপূর্ণ ইচ্ছা মৃত্যুর পর পূরণ করা হয় সে বিষয়গুলো।
তবে জানেন কি? এমন কেউ আছে, যে কিনা তার মৃত্যুর পর নিজের শরীর ২৭ হাজার টুকরো করার ইচ্ছা জানান তার পরিবারের কাছে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। তেমনটাই হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারের বাসিন্দা সুসান পটার।
১৯৮২ সালে সুসান পটার জন্ম। তিনি মৃত্যুর আগে পরিবারের লোকদের বলে যান তার মৃত্যুর পর তাকে ২৭ হাজার টুকরো করার জন্য। ভাবছেন কোনো অপরাধ করেছে। জেনে আশ্চর্য হবেন নিজের শরীরের ২৭ হাজার টুকরো করার নির্দেশ জীবিত অবস্থায় ওই নারী দিয়ে গেছেন।
জানা যায়, সুসান পটার নামের ওই নারী ২০১৫ সালে ৮৭ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি তার ইচ্ছাপত্রে লিখে যান, তিনি এমন কিছু রেখে যেতে চান যা সমগ্র মানব জাতির কাজে আসবে। তিনিই পরিকল্পনা করে যান, তার মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হবে।
আর এই মৃতদেহটি এক ডিজিটাল মৃতদেহে পরিণত করা হবে। সেই কথা ভেবেই সম্প্রতি সুসান পটার সংরক্ষিত দেহ ২৭ হাজার টুকরো করা হয়। তার চুলের মতো সূক্ষ্ম ওই খণ্ডগুলোর আণুবীক্ষণিক ছবির থ্রি ডি ডিজিটাল রূপ ধরে রাখা হয়।
এই সংরক্ষণ মূলত চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের কাজে আসবে। ২০১৫ সালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। এরপর তিন বছর তার মরদেহ সংরক্ষিত রাখা হয়। এই সময়ে তার মৃতদেহের বিভিন্ন রকমের ছবি তুলে রাখা হয়।
আর সেই ছবি ব্যবহার করেই তার মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তরফে এই পদ্ধতির এক বিস্তারিত ভিডিও তুলে রাখা হয়েছে। এই বিচিত্র সংরক্ষণটি ঘটেছে ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর সেন্টার ফর হিউম্যান সিম্যুলেশনে। সংস্থার ডিরেক্টর ভিক স্পিৎজার এই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণও দিয়েছেন।
আরও জানা যায়, সুসান পটার ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর হিউম্যান সিম্যুলেশন সংক্রান্ত এক প্রবন্ধ পড়েই অনুপ্রাণিত হন। আর এই প্রবন্ধ পড়েই সিদ্ধান্ত নেন তিনি তার মৃতদেহ এই কাজে দান করে যাবেন। এভাবেই তিনি অমরত্ব অর্জন করবেন, এটাই ছিল তার ভাবনা।
মৃত্যুর আগে সুসান পটার সেই করাত টিকে দেখে যেতে চান, যা দিয়ে সুসান পটারকে খণ্ড খণ্ড করা হবে। সেই ফ্রিজও তিনি দেখে যেতে চান, যে ফ্রিজে তার মৃতদেহ রাখা হবে। সুসান পটার সেই ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন গবেষকরা এবং তার পরিবারর লোকেরা।





Post a Comment