হাজারো চীনামাটির থালা-বাসনে ঢেকেছেন নিজ বাড়ির দেয়াল, এর রহস্য কী?
Odd বাংলা ডেস্ক: ঘরের দেয়ালে নান্দনিক কারুকার্য বা দেয়ালের রং পরিবর্তন তো সবাই করে থাকেন। তবে কখনো কি দেখেছেন থালা-বাসন দিয়ে কেউ ঘরের দেয়াল সাজিয়েছেন? অবাক করা এই কাজটি করে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন ভিয়েতনামি এক ব্যক্তি।
ঐতিহ্যবাহী চীনামাটির থালা-বাসন ও অ্যান্টিক জিনিসপত্রের প্রতি মুগ্ধতা নিয়ে, ২৫ বছর ধরে সেগুলো দিয়েই ঘরের দেয়াল সাজাচ্ছেন এক ভিয়েতনামি ভদ্রলোক। এ কাজে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার চীনামাটির বাসন, বোল ও কলস তিনি ব্যবহার করেছেন!
চীনামাটির অ্যান্টিক থালা-বাসনের প্রতি এনগুইয়েন ভ্যান ত্রুং নামের ওই ব্যক্তির প্রথম ভালোবাসা জন্মে ১৯৮৬ সালে। সেনাবাহিনী থেকে কর্মচ্যূত হয়ে দেশটির ভিন ফুক অঞ্চলের নিজ গ্রাম কিয়েয়ু সনে তিনি ফিরে আসার এক বছর পর।
সেখানে তিনি বেশ কিছুদিন কাঠমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন। এক সময় স্থানীয় এক অ্যান্টিক সংগ্রাহকের কাছে থাকা টেবিল-চেয়ারে রং করার সুযোগ পেলেন। আর তখনই ঐতিহ্যবাহী চীনামাটির থালা-বাসনের সৌন্দর্য আবিষ্কার করেন তিনি।
ত্রুং এতটাই মুগ্ধ হয়ে যান, নিজেই সংগ্রাহক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। ঐতিহ্যবাহী চীনামাটির জিনিসপত্রের তল্লাশে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলো চষে বেড়াতে থাকেন। খরচ করতে থাকেন নিজের উপার্জনের যত টাকা।
ত্রুংয়ের এই চীনামাটির পণ্যপ্রেম তার পরিবারের পক্ষেও মেনে নেয়া কঠিন ছিল। কেননা নিজের টাকা ফুরানোর পর প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের কাছেও হাত পাতছিলেন তিনি।
সারাদেশ তিনি চষে বেড়িয়েছেন। কোথাও চীনামাটির থালা-বাসন বিক্রি হয় শুনলে ছুটে গেছেন। সপ্তাহ শেষে বা কখনো কখনো মাস শেষে ফিরে এসেছেন ব্যাগভর্তি এসব জিনিস নিয়ে।
শুরুতে এই ৫৮ বছর বয়সীর পরিকল্পনা ছিল, ওইসব পণ্য কিনে আবার বিক্রি করবেন। তাতে হয়ত কিছুটা লাভ থাকবে হাতে। তবে চীনামাটির এইসব অ্যান্টিক পণ্যের সৌন্দর্য দেখে তিনি বিমোহিত হয়ে যান। এগুলোকে কারও কাছে বেচার কথা ভুলেও ভাবতে পারেননি আর।
ত্রুং জানান, নিজের এইসব সংগ্রহ বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যাবে বা ভেঙে যাবে- এই ভয়ে তিনি তটস্থ থাকতেন। তাছাড়া তিনি নিজেও তো একদিন হুট করে মরে যাবেন, তখন কী হবে এগুলোর? তার পরিবার হয়তো এগুলো বেচেই দেবে।
এসব চিন্তা করেই ওই পণ্যগুলোর সুরক্ষার বিকল্প ভাবনা ভাবেন তিনি। নিশ্চিত করেন, যেন এগুলো তার বাড়িতে সুদীর্ঘদিন টিকে থাকে। আর সেজন্যই দেয়াল সাজানোর কাজে এগুলোর এমন উদ্ভাবনী ব্যবহার তিনি করছেন।
তার মতে, আমি আমাদের পূর্বপুরুষদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছি শুধু। আর সে কারণেই আমার বাড়ির দেয়ালে ওদের জায়গা করে দিয়েছি। কাজটা তিনি শুরু করেছিলেন এক রাতে, এক ধরনের নিরীক্ষার মতো। তারপর অভ্যাস হয়ে গেছে।
তার বাড়ির সব দেয়ালই ঢাকা পড়েছে চীনামাটির হাজারও থালা-বাসনে। এই প্রায় ১০ হাজার থালা-বাসনের বেশিরভাগগুলোই অপেক্ষাকৃত সস্তা। তবুও সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকের কিছু নিদর্শনও এখানে রয়েছে।
এসব থালা-বাসনের দর-দাম কত, এ নিয়ে ভাবতে নারাজ এই ভিয়েতনামি চীনামাটির থালা-বাসন সংগ্রাহক। নিজের দেশের সংস্কৃতিকে রক্ষা করাই তার একমাত্র চাওয়া।
নিজের সন্তানদের এরইমধ্যে বলে দিয়েছেন, যেন তিনি মরে গেলে এগুলো কেউ বিক্রি বা বিনষ্ট না করে। তারা চাইলে এগুলোর সঙ্গেই বসবাস করতে পারে, নতুবা যেন নিজেদের বাড়ি নিজেরাই গড়ে নেয়!





Post a Comment