এই মন্দিরে শনিদেব বিরাজ করছেন নারীরূপে! যাঁকে ঘিরে আজও ঘনীভূত রহস্য


Odd বাংলা ডেস্ক: সারা ভারতের বিভিন্ন কোণায় অবস্থান করছেন ঈশ্বর, এটাই বিশ্বাস। তবে কোনও কোনও জায়গায় ঈশ্বরের এমন কিছু অপার মহিমার কাথা জানা যায়, যা শুনলে বিসময় জাগবে আপনার মনেও!  আহমদাবাদ শহর থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত কষ্টভঞ্জন হনুমান মন্দিরটিকে দেখলে আপনার মনে হবে এটি কোনও নতুন দেবালয়। তবে কষ্টভঞ্জনের এই দেবস্থান বহুবছরের পুরনো। নিয়মিত সংস্কার করার জন্য মন্দিরে নেই সেই প্রাচীনত্বের ছাপ। লোকবিশ্বাস, এই মন্দিরের অধিষ্ঠাতা কষ্টভঞ্জন ভক্তের যারতীয় দুঃখকষ্ট হরণ করে শান্তি দেন। এমন মহিমা যে কোনও মন্দিরের উপরেই আরোপিত হতে পারে। তবে এই মন্দিরের বৈশিষ্ট্য সেখানে নয়। বিবিধ বিচিত্র রহস্য ঘিরে রেখেছে এই মন্দিরকে।

এই মন্দিরের প্রধান দেবতা হনুমান। মানুষের বিশ্বাস এই মন্দরে পুজো দিলে অপদেবতাদের হাত থেকে কষ্টভঞ্জন রক্ষা করেন।  শনিবারেই এই মন্দিরে সব থেকে বেশি ভিড় হয়। শনিদেবের সঙ্গে এই মন্দিরের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এই মন্দিরে শনিদেবের একটি মূর্তি রয়েছে। কিন্তু তার রূপ এতটাই আলাদা যে, আমাদের পরিচিত শনিমূর্তির ধারণা থেকে তাঁকে চেনা সম্ভব নয়। এখানে শনিদেব বারাজ করছেন নারীরূপে। 

কিংবদন্তি অনুসারে, একবার পৃথিবীতে শনিদেবের প্রকোপ ভয়ঙ্করভাবে বৃদ্ধি পায়। মানুষ বিপন্ন হয়ে প্রতিকারের জন্য হনুমানের শরণাপন্ন হন। মানুষের প্রার্থনায় কাজ হয়। হনুমান শনিদেবকে জব্দ করবেন বলে ঠিক করেন। শনিদেব জানতেন, হনুমান ব্রহ্মচর্য ব্রতধারী। তিনি তাঁর হাত থেকে বাঁচার জন্য নারীরূপ ধারণ করেন এবং হনুমানের পায়ের কাছে বসে ক্ষমা চান। সেই কিংবদন্তিকেই দেখানো হয়েছে কষ্টভঞ্জনের মূর্তিতে। শনির দুর্দশাকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে এখানে, মানুষ তাতে ভরসা পায়। ভাগ্যের হাতে নিঃশর্তে নিজেকে তুলে দেওয়ার আগে ভাবনার অবকাশ পায়। তাই কষ্টভঞ্জন হনুমানের পায়ের আজও নারীরূপে বিরাজ করছেন শনিদেব।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.