নারী সঙ্গীকে পেতে দাঁত দিয়ে লড়াই করে এই প্রাণীরা

Odd বাংলা ডেস্ক: সিন্ধুঘোটক হলো এক প্রকারের জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত দর্শন প্রাণীগুলোর একটি। এদের বাস উত্তর মেরুর কাছাকাছি উত্তর মহাসাগর এবং উত্তর গোলার্ধের মেরু নিকটবর্তী এলাকায়। এরা ওয়ালরাস নামেও পরিচিত।

সিন্ধুঘোটক তিনটি উপপ্রজাতিতে বিভক্ত। যথা- আটলান্টিক মহাসাগরীয় ওয়ালরাস বা সিন্ধুঘোটক, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ওয়ালরাস বা সিন্ধুঘোটক এবং ল্যাপটেভ সাগরের ওয়ালরাস বা সিন্ধুঘোটক।

সিন্ধুঘোটক দেখতে দৈত্যাকৃতির। এরা ৭ থেকে ১১ ফুট লম্বা হয়। পুরুষদের ওজন প্রায় এক টনেরও বেশি। আর নারীদের ওজন তার থেকে একটু কম থাকে। একটি শিশু সিন্ধুঘোটকের ওজন হয় ৫০ থেকে ৭০ কেজি।

এদের দাঁত অনেকগুলো থাকলেও এরা এদের দুটি দাঁতের জন্য জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কারণ ওই দুটি দাঁত ৩ ফুটের লম্বা হয়। বিশাল এই দাঁত তারা বরফ ভাঙতে ব্যবহার করে থাকে। 

আবার কোনো মেয়ে সিন্ধুঘোটককে নিয়ে যখন দুটি পুরুষ সিন্ধুঘোটকের লড়াই বাঁধে, তখনো তারা তাদের এই দাঁতগুলো ব্যবহার করে করে থাকে। বেশিরভাগ সময় এরা উত্তর মহাসাগরে শিকার করে বেড়ায়। বাকি সময়গুলো কাটায় বরফের উপর। 


এরা সাধারণত কম জলের জায়গায় বেশি সময় কাটালেও খাবার খোঁজে জলের ২৭০ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে যেতে পারে। আর জলের নিচে থাকতে পারে আধা ঘণ্টার মতো। সিন্ধুঘোটকের পছন্দের খাবার হলো শেলফিস। শেলফিস হলো শক্ত খোলসযুক্ত সামুদ্রিক প্রাণী। এরা কখনো কখনো মরা হাঙরও খায়।

সিন্ধুঘোটক শীতল দেশের প্রাণী। তাই প্রচণ্ড শীতল আবহাওয়ায়ও তারা টিকে থাকতে পারে। এমনকি এরা হিমাঙ্কের নিচে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও বেঁচে থাকতে পারে। সিন্ধুঘোটকদের শরীরের পুরু চর্বির স্তর এদের ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচায়।

তবে বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে গ্রীষ্মকাল আগের চেয়ে অধিক উত্তপ্ত হচ্ছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গ্রীষ্মকালে সিন্ধুঘোটকের বাসভূমি হয়ে পড়েছে বরফহীন। এদেরকে বাধ্য হয়ে বিপজ্জনক ভূমিতে বিচরণ করতে হচ্ছে। রাশিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই সংকীর্ণ সৈকতটি পাহাড়ি ঢাল বিশিষ্ট। 

কিছু সিন্ধুঘোটক ভিড় থেকে রেহাই পেতে ঢাল বেয়ে উপরে উঠে যায়। পাহাড়ের চূড়ার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ মিটার। সিন্ধুঘোটক এখানে অবস্থান করবে, এমনটি হবার কথা নয়। 

ওয়ালরাস বা সিন্ধুঘোটকদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো কিলার হোয়েইল এবং মেরু ভালুক। ঢাল বেয়ে অনেক সময় মেরু ভালুকেরাও উঠে আসে। মেরু ভালুকের উপস্থিতিই সিন্ধুঘোটকদের ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যথেষ্ট। 

সিন্ধুঘোটকদের উদ্দেশ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জলেতে নেমে যাওয়া। কারণ জলেতে এরা অধিকতর নিরাপদ। ঢালে উঠে যাওয়া অনেক সিন্ধুঘোটক আর কখনোই সাগরে পৌঁছাতে পারে না। 

পাথরে কেউ আছড়ে পড়লে, তীরে থাকা সিন্ধুঘোটকেরা ভয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। ফলে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারায় আরও অনেকে। এ ধরণের ঘটনা বর্তমানে কয়েক বছরে একবার সংঘটিত হয়। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.