এই বাঙালি গুরুর প্রচেষ্টাতেই ‘যোগ ব্যায়াম’ এখন বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয়
Odd বাংলা ডেস্ক: বাঙালির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই আলস্যকে পুঁজি করা। অনেকেরই মত এমন। তবে জানেন কি? এককালে বাঙালি শরীরচর্চাতেও এগিয়ে ছিল। পারদর্শী ছিল লাঠিখেলায়। এমনকি যোগকে বিশ্বের দরবারে প্রথম বাঙালিই নিয়ে যায়।
মনে করা হয়, বি কে এস আয়াঙ্গার প্রথম যোগকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনিই জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন যোগ। তবে তারও তিন দশক আগে কলকাতারই এক যোগ গুরুর হাত ধরে বিদেশে পাড়ি দেয় ইয়োগা।
তিনি হলেন বিষ্ণুচরণ ঘোষ। তার সঙ্গে ছিলেন জামাতা বুদ্ধ বোস। ইউরোপ থেকে আমেরিকা, জাপান সর্বত্র যোগকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন তিনি। সেদেশের মানুষদের বুঝিয়েছিলেন, এই ইয়োগাই সারাতে পারে অসুখ। এমনকি জন্মগত রোগও।
বাঙালি এই যোগগুরু একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ। ভারতের কর্ণাটকের কোলার জেলায় জন্ম হয় তার। ১৩ ভাই-বোন ছিল বি কে এস আয়াঙ্গারের। যখন তার বয়স পাঁচ বছর তখন তার পরিবার বেঙ্গালুরুতে চলে আসেন।
আয়াঙ্গার তার জন্মের সময়ই ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর কবলে পড়েছিলেন। এরপর থেকে একের পর এক অসুখ- ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, টাইফয়েড জ্বর এবং সাধারণ অপুষ্টি নিয়ে লড়াই করেন আয়াঙ্গার।
১৯৩০ সাল নাগাদ অনুষ্ঠান করে যোগ দেখাতেন বিষ্ণুচরণ। যোগাভ্যাস করেই পেশিবহুল শরীর তৈরি করেছিলেন তিনি। তার কাছে যোগ শিখতে আসেন বিষ্ণু বোস। অনেক ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে এই তরুণ নজর কাড়ে বিষ্ণুচরণের।
যেখানেই যোগ দেখাতে যেতেন, সঙ্গে থাকতেন বুদ্ধ। সে দেশ হোক বা বিদেশ। এরপর পাকাপাকিভাবেই গড়পারে গুরুর বাড়ি থাকতে চলে আসেন বুদ্ধ বোস। সেখানে থেকেই গুরু-শিষ্যর রাতদিন যোগাভ্যাস চলত।
১৯৭৫ সালে আয়াঙ্গার তার প্রয়াত স্ত্রীর স্মরণে পুনেতে রামমণি আয়েঙ্গার মেমোরিয়াল যোগ ইনস্টিটিউট চালু করেছিলেন। তিনি ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
তবে তিনি আয়াঙ্গার যোগের জগতে সক্রিয় থাকতেন। বিশেষ ক্লাস শেখাতেন, বক্তৃতা দিতেন এবং বই লিখতেন। আয়েঙ্গারের মেয়ে গীতা এবং পুত্র প্রশান্ত শিক্ষক হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রশংসা অর্জন করেছেন।
আয়াঙ্গার ৯৫ বছর বয়সে ২০১৪ সালের ২০ আগস্টে পুনেতে মারা যান। আয়াঙ্গার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ৯০ বছর বয়সেও তিনি প্রতিদিন তিন ঘণ্টা আসন এবং এক ঘণ্টা প্রাণায়াম চালিয়ে যেতেন।





Post a Comment