জীবনে কখনওই হাসেননি তিনি, বিশ্বসেরা কমিডিয়ানও হয়েছেন ব্যর্থ

Odd বাংলা ডেস্ক: হাসতে নাকি জানেনা কেউ/ কে বলেছে ভাই?এই শোন না কত হাসির/ খবর বলে যাই। কবি রোকনুজ্জামান খানের কবিতার কথা মনে আছে নিশ্চয়। আসলে হাসি মূলত একটি ছড়া। যেখানে ছড়াকার তার মনের কথাগুলো একটি ছন্দে প্রকাশ করেছেন। আধুনিকতা আর ব্যস্ততার চাপে যখন মানুষ হাসতে ভুলে যাচ্ছে। সেই সময় এই ছড়া যেন এক ফালি চাঁদের হাসি। 

সে যাই হোক। আজ বলছি জীবদ্দশায় হাসেননি এমন এক নারীর কথা। অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়। হবারই কথা তবে হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। যেখানে আপনার শত কষ্ট আর মন খারাপের মাঝে ছোট্ট খুশিতেই হাসি। সেখানে আমেরিকান এই নারী কোনো দিন হাসেননি। তাকে হাসানোর জন্য নিউইয়র্ক সিটির ভিক্টোরিয়া থিয়েটারে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে যে সোবার সুকে হাসাতে পারবে তাকে দেয়া হবে একশ ডলার পুরষ্কার। 

ভাবছেন কি আর কঠিন কাজ। আবার পুরস্কারও তো সামান্য। তবে এখনকার নয়, বলছি ১৯০৭ সালের কথা। সেসময় একশ ডলারের প্রাইজ মানে বেশ অনেকগুলো অর্থ পুরস্কারই ছিল বটে। এই খবরটা চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। আর তাই তো তখনকার বিশ্বের নামকরা সব কমেডিয়ান ছাড়াও সাধারণ ব্যক্তি ওই থিয়েটারে এসে উপস্থিত হলেন। সোবার সু কে এবার হাসাতেই হবে।   

সবাই সবার সাধ্যমত চেষ্টা করল। কেউই তাকে হাসাতে পারল না। এমনকি এমন একজন কমেডিয়ান ছিলেন যার কমেডিতে যে কেউ হেসে হুমড়ি খেয়ে পড়ত তার কমেডিতেও সোবার হাসল না। সবাই নির্বাক হয়ে সেইদিন চলে গেল। কোনো কিছুতেই কাজ হলো না। সবাই ব্যর্থ হলেন সোবারকে হাসাতে।

তবে এরপর বেরিয়ে এলো আসল ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোবার সু এমন একজন মেয়ে যিনি কোনোদিন হাসতে পারবেন না। তার মুখের একটা অংশ প্যারালাইজড। ঠিক এই কারণে সোবার মনে মনে হাসলেও মুখে সেটা প্রকাশ পেত না।

১৮৮০ থেকে ১৯৩০ এর দশক পর্যন্ত আমেরিকান বিনোদনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ছিলেন ওয়াউডভিল। অনেকেই মনে করেন এটি সম্ভবত আধুনিক আমেরিকান পপ সংস্কৃতির পূর্বসূরীর নাম। এটি আসলে ছিল এক ধরনের স্টেজ শো। যেখানে জাদু, কৌতুক এবং বিভিন্ন প্রাণীর অসাধারণ কাজ দেখিয়ে দর্শককে মুগ্ধ করা হয়। তুলনামূলকভাবে প্রতিটি বড় শহরের বিভিন্ন শোয়ের জন্য নিজস্ব থিয়েটার থাকত। তেমনি নিউইয়র্কের জন্য ছিল হ্যামারস্টেইনের।   

ভিক্টোরিয়া থিয়েটারটি প্রথমে নিউইয়র্কের একটি আমেরিকানদের থাকার বাড়ি ছিল। যেটি ১৯ শতকের শেষদিকে থিয়েটার হিসেবে রূপান্তর করা হয়। শুরুতে মালিকানার ভিত্তিতে এর নাম দেয়া হয় মোগুল অস্কার হামারস্টেইন। সংক্ষেপে হ্যামারস্টেইন নামেই এটি বেশি পরিচিত ছিল। যদিও এর বেশ কিছুদিন পরে বাড়িটির ছাদের উপরে নির্মিত থিয়েটার এবং দুটি ভেন্যু সম্মিলিতভাবে হ্যামারস্টেইনের নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯০৪ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত বাড়িটি অস্কারের পুত্র উইলি হ্যামারস্টেইনের দ্বারা পরিচালিত হয়। যিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ভুডভিল অভিনয় করেন। যার মধ্যে একটি ছিল কুখ্যাত সোবার স্যু অ্যাক্ট। 

উইলি হ্যামারস্টেইন সোবার নিয়ে অনেক গবেষণা করেছিলেন এক সময়। তাকে হাসাবার চেষ্টা করেছেন। তবে তাতেও তেমন কাজ হয় নি। এরপর অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সত্যটা প্রকাশ পায়। যে সুবারের আসলে মুখের একটি পাশ অচল ছিল। যে কারণে সে মনে মনে খুশি হলেও মুখে তা প্রকাশ পেত না।

ভাবতে পারছেন এই ছোট্ট মেয়েটি কোনো দিনই মন খুলে হাসতে পারেনি। পারেনি মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে। তবে এর আগেও আমরা একজন নারীর কথা জেনেছিলাম। ষাটোর্ধ্ব সেই নারী জীবনে কখনো হাসেননি। তার অবশ্য অন্য কারণ আছে। ত্বকে যেন কোনো ভাজ না পড়ে সে কারণেই এমনটা করেছিলেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.