মানুষের ‘মল’ থেকে তৈরি হচ্ছে খাবার, খাবেন নাকি?
Odd বাংলা ডেস্ক: মানুষের মল থেকে তৈরি হবে খাবার, আর সেটা খাবেন মানুষই! এমন কোনো পরিকল্পনা কোনো সুস্থ মানুষের মস্তিষ্কপ্রসুত নয় বলেই অনেকের মনে হবে। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একটি গবেষণা সফল হলে তাই ঘটতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় এ গবেষণা সফল হলে গবেষকদের নগদ দুই লাখ মার্কিন ডলার পুরষ্কারও দেবে নাসা। তাই বলে মানুষের মল থেকে খাবার!
আঁতকে উঠবেন না। পৃথিবীর সাধারণ মানুষকে খেতে হবে না এ খাবার। নাসা বর্তমানে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযান দল প্রেরণের পরিকল্পনা করছে। মানুষের মল থেকে খাবার তৈরির এই প্রচেষ্টা সফল হলে দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত মঙ্গল অভিযানের দিকে তা হবে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি।
বর্তমানে এ লক্ষ্য নিয়েই নর্থ ক্যারোলাইনার ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কাজ করে চলেছেন। তারা জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ইস্ট রূপান্তর করবেন, যার ফলে এই ইস্ট মানব বর্জ্যের নাইট্রোজেন ও পফ্যাটি এসিডকে কাজে লাগিয়ে ওমেগা-থি প্রোটিনে পরিণত করবে। এই ওমেগা-থ্রি থেকেই পাওয়া যাবে মহাকাশচারীদের খাবার।
বর্তমানে মহাকাশে নভোচারীদের মূত্র পরিশোধন এর মাধ্যমে তাদের পানীয় জলের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগেই মহাকাশে বসে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে উৎপাদিত লেটুস খেয়েছেন নভোচারীরা। আলোচ্য গবেষণাটি সফল হলে তা ধারবাহিক অগ্রযাত্রায় যোগ করবে আরেকটি মাইলফলক।
এই উদ্যোগ সফল হলে মহাকাশ গবেষণা এবং অভিযানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।এর ফলে মহাকাশের আরোও দূরের গ্রহ গুলোতে মনুষ্যবাহী অভিযান প্রেরণ করা যাবে, নভোচারীরা মহাকাশে অবস্থান করতে পারবেন আরও দীর্ঘ সময়; খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তা ছাড়াই। মহাকাশের দূরতম গ্রহে স্থাপন করা যাবে উপনিবেশ। সবই মানব বর্জ্য থেকে তৈরি খাবারের দৌলতে!
কারো কারো কাছে এটি গা গুলানো বা ঘিন ঘিনে মনে হলেও, বিজ্ঞানের উদ্ভাবনী দক্ষতায় যে মানব বর্জ্য স্বাস্থ্যকর ও উপাদেয় হবে তা নিশ্চয়তা দিয়েই বলা যায়! তবে মঙ্গলগ্রহ অভিযানে যেতে চান কিন্তু শুচিবাই প্রকট এমন মানুষের জন্য এটি দুঃসংবাদ বৈকি!





Post a Comment