আজব দেশ! আকাশে উড়ে বেড়ায় মাছ!
Odd বাংলা ডেস্ক: শুনতে একটু অবাক লাগলেও এটা কিন্তু সত্য যে, জাপানের আকাশে এপ্রিল-মে মাসে বাহারি রঙের মাছ উড়তে দেখা যায়। জাপানে আগত যেকোনো নবাগত পর্যটকের কাছে এ এক বিস্ময়কর ব্যাপার!
বসন্তের মন মাতানো ফুলের পাশাপাশি আকাশে উড়ে বেড়ানো এসব সুদৃশ্য মাছ সবারই নজর কাড়ে। তাই পর্যটকেরা ধরাছোঁয়ার বাইরে উড়ন্ত রং বেরঙের মাছগুলোকে বড়শি কিংবা জালে ধরতে না পারলেও ক্যামেরার জালে আটকাতে ভুল করেন না। তবে নজরকাড়া এসব মাছ আসলে সত্যিকারের মাছ নয়, এটা এক ধরনের ঘুড়ি। বলা যায় মাছ ঘুড়ি।
জাপানের চারদিকে যখন চেরিফুল তার ভরা যৌবন নিয়ে প্রকৃতির বুকে পা রাখে, ঠিক তখনই কারও বাড়ির বারান্দা বা ছাদে কিংবা খোলা মাঠে মাছ ঘুড়ি সারি বেঁধে উড়তে দেখা যায়। রং বেরঙের ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের এসব মাছ ঘুড়ি যখন পতপত করে বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উড়তে থাকে তখন মনে হয়, মাছেরা হয়তো পূর্বের জনমে পাখি ছিল। ঠিক যেন পঙ্খিরাজ ঘোড়ার মতো!
জাপানে আসার পর আমার এই মাছ ঘুড়ি নিয়ে কৌতূহলের অভাব ছিল না। খুব জানতে ইচ্ছে করত কেন বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাছদের আকাশে ওড়াউড়ি। অবশেষে জানতে পারলাম এর আসল ইতিহাস।
পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষা আমাদের সমাজের এক প্রাচীন রীতি। যুগ যতই এগিয়ে যাক না কেন, এখনো কেন জানি প্রথম সন্তান সবাই পুত্রই আশা করেন। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠরা। জাপান টেকনোলজিতে সেরা হলেও প্রাচীন এই রীতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। আর তাইতো প্রতি বছর ৫ মে তারা পালন করে শিশু দিবস। তবে এই শিশু দিবসকে পুত্র শিশু দিবস নাম দিলেই ভালো হয়। কারণ, গত বছরের ৬ মে থেকে এ বছরের ৫ মের মধ্যে যেসব বাড়িতে পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের নানি-দাদিরা নাতির মঙ্গল কামনায় মাছ ঘুড়ি টাঙিয়ে থাকেন।
কই মাছের মতো দেখতে এই মাছ নাকি শক্তির প্রতীক। নাতি যেন শক্তিশালী আর স্বাস্থ্যবান হয়, তাই আকাশে মাছের এত ওড়াউড়ি। ভালোবাসার কী আজব নিদর্শন! হোক না যুগটা অতি আধুনিক, কখনো কখনো ভালোবাসা কুসংস্কারকেও আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে...!





Post a Comment