বিয়ের দিন গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ইনি!
Odd বাংলা ডেস্ক: সেদিন ছিল তাঁর বিয়ে। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা মিলল না তাঁর। ওই সময় কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি, বিয়ের কনেকে অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়েছে; পরে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে রাস্তার ধারে।
বিয়ের দিনটি যে কারও জীবনের স্মরণীয় দিনগুলোর একটি। আর সেই দিনটিতে এই বীভৎস নির্যাতনের শিকার হন তরুণী টেরি গোবাঙ্গা। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির বাসিন্দা টেরির জীবনের দুটি বড় বিয়োগান্ত ঘটনার প্রথমটি হলো এটি।
সেই বীভৎস নির্যাতনের বর্ণনায় টেরি বলেন, ‘সেদিন ছিল আমার বিয়ে। বেশ বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আমি প্যাস্টর (গির্জার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট) ছিলাম। তাই আমার গির্জার সদস্যদেরও বিয়ের অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল। আমি ও আমার হবু স্বামী বিয়ে নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত ছিলাম। নাইরোবির অল সেইন্টস ক্যাথেড্রালে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের জন্য একটি সুন্দর পোশাক ভাড়া নিয়েছিলাম আমি।’
কিন্তু বিয়ের আগের দিন রাতে হঠাৎ টেরির মনে পড়ে, হবু স্বামী হ্যারির কিছু পোশাক তাঁর কাছে আছে। এর মধ্যে টাইও ছিল। টেরি বলেন, ‘বিয়ের দিন ভোরবেলা উঠে হ্যারিকে পোশাকগুলো দিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার এক বন্ধুও এতে সায় দিয়ে বলল, সে নিজেই নিয়ে যাবে পোশাকগুলো। সূর্য ওঠার পরপরই বেরিয়ে পড়ি আমরা। বন্ধুটিকে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দিই আমি।’
এরপর বাড়ি ফিরছিলেন টেরি। তিনি জানতেন না, কী ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন তিনি। টেরি বলেন, ‘ফেরার পথে রাস্তায় দেখি একটি লোক গাড়ির বনেটের ওপর বসে আছে। হঠাৎ পেছন থেকে আমাকে জাপটে ধরে লোকটি; জোর করে গাড়ির পেছনের সিটে তুলে নেয়। গাড়ির ভেতরে আরও দুজন ছিল। আমাকে তুলে নিয়েই গাড়ি ছেড়ে দিল তারা। মনে হয় এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটে গেল এ ঘটনা। আমার মুখের ভেতরে কাপড়ের টুকরো ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি ক্রমাগত হাত-পা ছুড়ে চিৎকার করার চেষ্টা করছিলাম। কাপড়টা কোনোক্রমে মুখ থেকে বের করেই চিৎকার করে বললাম, আজ আমার বিয়ের দিন। কিন্তু তারা কোনো কথা শুনল না। উল্টো আমাকে বলল, মেনে নাও নয়তো মারা যাবে। এরপর তারা একে একে আমাকে ধর্ষণ করে। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে মারাই যাব। তবে বাঁচার চেষ্টাও করছিলাম। বাঁচার জন্য একজনকে খুব জোরে লাথি মারি। সে যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে এবং আমার পেটে ছুরি মারে। এরপর তারা দরজা খুলে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয় আমাকে।’
নাইরোবির বাড়ি থেকে কয়েক মাইল দূরের রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন টেরি। অপহরণের প্রায় ছয় ঘণ্টা পার হয়ে গিয়েছিল তখন। একটি শিশু তাঁকে দেখতে পায়। শিশুটি নিজের দাদিকে ডেকে আনে। এরপর আরও অনেক মানুষ জড়ো হয় সেখানে। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ তাঁকে মৃত মনে করে একটি কম্বলে জড়িয়ে মর্গে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে। কিন্তু মর্গে নেওয়ার পথে হঠাৎ কাশতে থাকেন টেরি। তখনই গাড়ি ঘুরিয়ে কেনিয়ার সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালে টেরিকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হয়।





Post a Comment