বাড়ি গাড়ি নয়, তাদের কাছে মহামূল্যবান সম্পদ ছাগল আর ভেড়া
Odd বাংলা ডেস্ক: পৃথিবীতে বহু জাতি রয়েছে। যাদের রয়েছে বিচিত্র গঠন, বৈশিষ্ট্য ও বর্ণ। তাদের রয়েছে বিভিন্ন রকম রীতি-নীতি। আজ এমন একটি জাতি সম্পর্কে জানাবো, যে জাতির লোকেরা ইয়াক, ছাগল আর ভেড়াকে তাদের সম্পত্তি হিসেবে মনে করে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সে জাতি সম্পর্কে-
তিব্বতী চাংপা জাতি বর্তমানে এরা ভারতের জুম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের লাদাখ অঞ্চলে বাস করেন। তিব্বতী চাংপা জাতিগোষ্ঠীর আদি বাসস্থান তিব্বতের উত্তর পশ্চিম দিকে অবস্থিত চাংতাং নামক উচ্চ মালভূমি অঞ্চল। তিব্বতী ভাষায় চাংপা শব্দের অর্থ উত্তরের আদিবাসী।
চাংপারা দেখতে সুন্দর। তবে দেখতে সুন্দর হলেও রুক্ষ প্রকৃতির সঙ্গে বেঁচে থাকার যুদ্ধে অল্প বয়সেই বয়সের ছাপ পড়ে যায় তাদের চেহারায়। এজন্য এদের চেহারাটা যতটাই না বয়স্ক তার চেয়েও বেশি বয়স্ক দেখায়।
তিব্বতী চাংপারা ভবঘুরে জাত। বছরে আট থেকে দশ বার এরা বসতির এলাকা বদল করে। বসতি বলতে ইয়াক নামক পশুর চামড়া আর পশম দিয়ে তৈরি তাবুই এদের একমাত্র সম্বল। অপদেবতার হাত থেকে রক্ষা পেতে চাংপারা প্রতিটি তাবুর মাঝখানে এক গুচ্ছ ইয়াকের চামড়ার পশম ঝুলিয়ে রাখে।
আর অচেনা মানুষ ও রাতে তুষার চিতার হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা কুকুর পুষে থাকে। ঐতিহাসিক কাল থেকে চাংপারা লাদাখ থেকে তিব্বতের দিকে পশু চরানোর জন্য যেত। তবে চীন তিব্বত অধিকরণের পর সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়।
চাংপা পশুপালকদের কাছে পোষা ইয়াকই জীবনের অবলম্বন। তাদের উপার্জনের মূল উপায় ও শীতকালের অন্যতম খাদ্য হলো ইয়াক। তবে তারা ছাগল এবং ভেড়াও পুষে থাকে। তারা কখনো মাংসের জন্য পশু হত্যা করে না। এটি তাদের সম্প্রদায়ের বাইরে। যা নিয়মের বিরুদ্ধে।
প্রবল ও দীর্ঘ শীতের সময় কোনো পোষা ইয়াকের স্বাভাবিক মৃত্যু হলে তা তারা খানিকক্ষণের জন্য খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। আর তার পশম দিয়ে কাপড় বুনে। যা যাযাবর মানুষদের চরম শীত ও হিমশীতল বাতাস থেকে রক্ষা করে। প্রায় প্রতিটি পরিবারে সম্পত্তি বলতে ছাগল, ভেড়া আর ইয়াকের পাল। তা থেকে এদের দিনে অল্প পরিমাণে আয় হয়।





Post a Comment