মোবাইল ব্যবহারে শরীরের যত ক্ষতি

Odd বাংলা ডেস্ক: হাতে ধরে চোখের সামনে একটি মোবাইল ছাড়া আমাদের এখন একটা মুহূর্তও চলে না। ফোনে আমরা শুধু কথা বলেই সময় পার করি না, গান শোনা, ভিডিও দেখা, গেম খেলা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারই হয় বেশি। কিন্তু আমরা ফোনের নেশায় এমনই বুঁদ হয়ে থাকি যে, ফোন ব্যবহার যে আমাদের শরীরের কত ক্ষতি করে সেদিকে আমাদের খেয়ালই থাকে না। অনেকে হয়ত ক্ষতির বিষয়টি সঠিকভাবে জানিও না।  

চোখের ক্ষতি

ফোন ব্যবহারে যে চোখের ব্যাপক ক্ষতি হয় সেটা সবারই কমবেশি জানা। খেয়াল করলে দেখা যাবে ফোনের দিকে তাকানোর সময়ে আমরা চোখ-মুখ কুচকে তাকান। আর এর ফলে চোখের চারপাশে ছোট ছোট ভাঁজের সৃষ্টি হয়। আবার মোবাইলের পর্দা তুলনামূলক ছোট হয় বলে খুব মনোযোগ দিয়ে তাকাতে হয়। ফলে চেহারায় অল্প বয়সেই বয়সের ছাপ পড়ে, মুখে বলিরেখা দেখা দেয়।

ব্রণের সমস্যা

মোবাইল ফোনে থাকে একগাদা ব্যাকটেরিয়া। সারাদিনে প্রচুর ময়লা এখানে জমতেই থাকে। আমরা প্রতিবার ফোনে কথা বলার সময় ত্বকে সেই ময়লা লেগে যায়। সেগুলো সরাসরি ত্বকের ক্ষতি করে। আর সেই সঙ্গে তীব্র ব্রণের সমস্যা শুরু হয়।

সর্বদা ক্লান্তবোধ করা

দীর্ঘসময় ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে এবং মাথায় ক্লান্তিভাব আসে। সারাদিন শরীরে এর প্রভাব পড়ে, সেটা খেয়াল করলেই আমরা বুঝতে পারবো। মোবাইলে গেম, ভিডিও দেখা বা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করা হোক না কেন তা ত্বককে নির্জীব ও মলিন করে ফেলে। ফোন থেকে সৃষ্টি হওয়া তাপ ত্বকে কালো দাগ এবং কালচে ভাব ফেলে।

ফোন আসক্তি থেকে মানসিক চাপ সৃষ্টি

আমাদের প্রজন্ম এখন ফোন ছাড়া এক মিনিটও কল্পনা করতে পারে না। কারণ আমরা ফোনে অতিমাত্রায় আসক্ত। ফোন ছাড়া থাকতে না পারা, বার বার ফোনের সব ধরনের নোটিফিকেশন চেক করার লক্ষণকে `নোমোফোবিয়া` বলে। মোবাইলে চার্জ বা ইন্টারনেট কানেকশন না থাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা মানসিক চাপ বাড়ায়। এসব চাপ পুরো শরীরের ক্ষতি করে।

ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে

ঘুম বা ক্লান্তি চেপে রেখে আমরা রাতের বেলাতেও মোবাইল ফোন চাপতেই থাকি। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাক বা অসুস্থ থাকি না কেন, ফোন ব্যবহারে আমাদের কোনো ক্লান্তি থাকে না। রাতে মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে তাকতে থাকতে ফোনের আলোর প্রভাব দীর্ঘক্ষণ থেকে যায়। যে কারণে মোবাইল রেখে দেওয়ার পরও ঘুম আসে না। কম ঘুমালে ত্বকের আর্দ্রতা চলে যায়, ফলে ত্বকে নির্জীবতা চলে আসে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.