জাপানীদের প্রাচীন বৃক্ষ বৃদ্ধির অদ্ভুত পদ্ধতি ‘ডাইসুগি’

Odd বাংলা ডেস্ক: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে,১৯৪৫ সালের ৬ই আগস্ট জাপানি সময় ঠিক সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বি-২৯ বোমারু বিমান, যেটির নাম ছিল ইনোলা গে, হিরোশিমায় প্রথম পরমাণু বোমা ফেলে। এর ঠিক তিনদিন পর ৯ তারিখে নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।  

হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে কত লোক মারা গিয়েছিল, তা মূলত আনুমানিক হিসেব। ধারণা করা হয় হিরোশিমা শহরের সাড়ে তিন লাখ মানুষের মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ কেবল বোমার বিস্ফোরণেই মারা যায়। আর নাগাসাকিতে মারা যায় ৭৪ হাজার মানুষ।

সেই সঙ্গে এর কারণে জাপানের বনাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যুদ্ধের চাহিদা মেটাতে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন ঘটে। যুদ্ধের পর জাপান বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়। যেখানে যেমন প্রাকৃতিক বন ছিল সেখানে সেই রকম বন সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। ছবির মতো সুন্দর সবুজ বৃক্ষরাশিতে ঘেরা এই জাপানের চিত্র ফিরে আসে সেসময়ের উদ্যোগে। 

এর ফলে বৃক্ষ , গুল্ম, পাখি, কীটপতঙ্গ সব ফিরে আসে। জাপানে বর্তমানে ৬৯% বনাঞ্চল এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এই বনাঞ্চলের পরিমাণ ৩০% বেড়েছে। ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে জাপানীরা গৃহ নির্মাণ এবং আসবাব বাবদ কাঠ ব্যবহার করলেও গাছ কাটে না।

গাছের ডালপালা কেটে ছেঁটে নির্দিষ্ট কিছু ডালকেই পরিকল্পিতভাবে বড় হতে দেয় তারা। এটাকে প্রুনিং বলা হয়। ফলে আঁকাবাঁকা, গিঁট এসব মুক্ত সোজা এবং দীর্ঘ কাঠ পাওয়া যায়। ডাইসুগি পদ্ধতিতে প্রুনিং করা অংশটাই কেটে নেয়া হয়, মূল গাছ থেকে যায়, সেই গাছ থেকে আরও আরও প্রুনিং করা কাঠ পাওয়া যায়।

এভাবেই গাছ না কেটেই ৭০০ বছর ধরে কাঠ উৎপাদন করছে জাপানিরা। একই গাছ শতবর্ষি হলেও টিকে থাকে এবং কাঠের জোগান দিয়ে যায়, বন এবং পরিবেশ রক্ষা পায়। জাপানীদের এই প্রাচীন বৃক্ষ বৃদ্ধির পদ্ধতিই হচ্ছে ডাইসুগি যা সারা বিশ্বের বিস্ময়! ১৪ শতকে অসাধারণ 'ডাইসুগি' কৌশলের সৃষ্টি করে জাপান। ডাইসুগি এমন একটি পদ্ধতি যে, প্রাচীন গাছগুলো না কেটেই নতুন করে বৃক্ষরোপন করার পদ্ধতি। এতে করে তাদের প্রাচীন গাছগুলো কালের সাক্ষী হয়ে রয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে নতুন করে বনায়ন বৃদ্ধি করতে পারছেন তারা। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.