কোন ব্যথা কী রোগের লক্ষণ? অবশ্যই জেনে নিন

Odd বাংলা ডেস্ক: আমাদের শরীরে ব্যথা-বেদনার কোনো শেষ নেই। আজ মাথায় ব্যথা তো কাল হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা। এই ব্যথার কারণ আমরা বেশিরভাগ সময়েই জানি না। আর কারণ না জেনে, চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে আমরা নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যথানাশকও খেয়ে ফেলি। এতে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ীভাবে কমে না, বরং শরীরে অন্যান্য ক্ষতি হয়। আর ছোটখাটো ব্যথাই যে বড় রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে তা জানব আজ-

মাথাব্যথা

মাথাব্যথা তো কমবেশি সবারই হয়। কিন্তু কিছুদিন থেকে যদি খেয়াল করেন যে ব্যথাটা বেশ তীব্র ব্যথা হচ্ছে, তাহলে সাধারণ ব্যথা বলে অবহেলা করবেন না। সব ব্যথারই কোনো না কোনো কারণ আছে।  হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা হলে সেটি ব্রেইন অ্যানুরিজম হতে পারে। এটি এমন রোগ যা তীব্র হলে ব্লাড ভেসেল ফেটে যেতে পারে। যা থেকে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

দাঁতব্যথা

ঠাণ্ডা কিছু খেলেই আমাদের দাঁতে অনেক সময়ে ব্যথা বা শিরশিরানি শুরু হয়। এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এরকম হলে বুঝবেন দাতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বসে না থেকে দন্তচিকিৎসকের কাছে যান।

হাতের যেকোনো ব্যথা

আপনার আঙ্গুলে, হাতে, হাতের তালুতে এবং কবজিতে ব্যথা বা অবশ হওয়ার অনুভূতি বুঝতে পারলে সাবধান হন। কারণ এটি কার্পেল টানেল সিনড্রোমের লক্ষণ। এই রোগে পড়লে হাতের পেশি শুকিয়ে যেতে পারে এবং হাত স্থায়ীভাবে অবশ হয়ে যেতে পারে। তাই অবশ্যই চিকিৎসকদের কাছে যান।

বুকে ব্যথা

বুকে ব্যথা হওয়া মানে আপনি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে। কারণ এ ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ। এই বুকে ব্যথার মানে হলো রক্তে অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হয়। বুকের এই ব্যথা মুখের চাপা, কাধ এবং গলা পর্যন্তও ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই সতর্ক হন।

পিঠে ব্যথা

আমাদের পিঠের মাঝামাঝি জায়গায় প্রায়ই ব্যথা হতে পারে। সেই সঙ্গে জ্বর সর্দি যদি থাকে তাহলে একটু খেয়াল রাখুন নিজের। কারণ এটি কিডনি ইনফেকশনের অন্যতম একটি কারণ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে ইনফেকশন থেকে কিডনিতে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

কোমর থেকে পায়ে ব্যথা

বিশেষত একটু বেশি বয়স্কদের কোমর থেকে ব্যথা পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একে বলে স্কিয়াটিকা। পায়ের স্কিয়াটিক টিস্যুতে চাপ পড়লে এই ব্যথা হয়। আবার এই ব্যথার সাথে সাথে যদি প্রস্রাবের কোনো সমস্যা দেখা দেয় তাহলে কডা ইকুইনা সিনড্রোম রোগের লক্ষণ। এ থেকে স্থায়ীভাবে প্যারালাইসিসের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।

শিরদাড়া ব্যথা 

আমাদের শিরদাড়ার নিচে ডানদিকে যদি ব্যথা হয় আর সঙ্গে জ্বর, সর্দি অথবা বমিভাব হলে বুঝবেন আপনার অ্যাপেনডিসাইটিসের সমস্যা হয়েছে। তাই চিকিৎসা নিন দ্রুত। নয়তো অ্যাপেনডিক্স ফেটে কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হতে পারেন।

পায়ের টানা ব্যথা

উঠতে বসতে আমাদের পায়ে খিল ধরে যেতে পারে। এটাকে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিই না। কিন্তু তার সঙ্গে যদি কোনো প্রদাহ বা ফোলার সমস্যা থাকে তবে শরীরে ক্ষতিকারক রক্তপিণ্ড থাকতে পারে, যার ফলেই এরকম ব্যথা হয়। এর চিকিৎসা জরুরি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.