আজ বিশ্ব রেডিও দিবস, জানুন বেতারের ইতিহাস
Odd বাংলা ডেস্ক: আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব রেডিও দিবস। ‘নতুন বিশ্ব নতুন বেতার’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শনিবার পালিত হবে বিশ্ব বেতার দিবস-২০২১। বাংলাদেশেও দশমবারের মতো দিবসটি নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে।
রেডিও সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বেতারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাছাড়া এক সময় বেতার ছিল গণমানুষের অন্যতম বিনোদন সঙ্গী। শহর নগর ছড়িয়ে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয়ও বেতার পৌঁছে গিয়েছিল। বাংলাদেশে বর্তমানে ২৮টি প্রাইভেট এফএম এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। এছাড়া, বাংলাদেশ বেতার ১৪টি আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্র এবং ৩৫টি এফএম পরিচালনা করছে। বেতার শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, শিক্ষার মাধ্যমও। আবহাওয়ার খবরের জন্য নদীমাতৃক এলাকার একমাত্র সম্বল রেডিও।
জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, সংকটে বা দুর্যোগে আমাদের জন্য রেডিও প্রেরণাদায়ক। বিশ্ব বেতার দিবস উদযাপনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে একটি অনুসরণীয় মডেল দেশ হিসেবে পরিচিত। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব বেতার দিবস পালিত হচ্ছে সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়। এবারের ওয়ার্ল্ড রেডিও ডে-তে থিম 'নিউ ওয়ার্ল্ড, নিউ রেডিও', অর্থাৎ নতুন বিশ্বের মাঝে নতুন বেতার। এবারের থিমের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে কোভিড পরবর্তী সময়েও রেডিও-র গুরুত্ব। ওয়েব সিরিজ, পডকাস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে যাওয়া বিশ্বে এখনও অনেক বিশ্ববাসী রোজ রেডিও শুনে থাকেন অভ্যাস করে।
এবারের থিমকে আবার ভাঙা হয়েছে তিনটি ভাগে। প্রথমত, 'বিবর্তন'। প্রচণ্ড গতিতে বদলাচ্ছে বিশ্ব, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাচ্ছে রেডিও-ও।দ্বিতীয় ভাগ 'স্থায়িত্ব'। পরিবর্তনের মাঝে বিবর্তনকে সঙ্গী করেও রেডিও-র পথচলা ধ্রুবক। অপর অর্থে স্থায়ী। তৃতীয়ত 'উদ্ভাবন'। বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে নতুন রকমের বিভিন্ন উদ্ভাবন, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এগোচ্ছে রেডিও মাধ্যমও, সেই বার্তাই দেয়া হয়েছে থিমে। সঙ্গে রয়েছে সংযোগ, রেডিও-র মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক ভেদ বাদে সবার সঙ্গে সমান ছন্দে সংযোগের বার্তা রয়েছে।
১৯৪৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি স্থাপিত হয়েছিল ইউনাইটেড নেশনস রেডিও। ২০১৩ সালে আজকের দিনেই তাই রাষ্ট্রপুঞ্জের অ্যাসেম্বলি দিনটিকে বেছে নেয় রেডিও ডে বা বেতার দিবস হিসেবে। লাতিন শব্দ রেডিয়াস থেকে উৎপত্তি রেডিও শব্দের। যার অর্থ আলোর কিরণ। ১৮৮১ সালে ফরাসি বৈজ্ঞানিক আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল বার্তা প্রেরণের জন্য উদ্ভাবন করেছিলেন রেডিওফোনের।
যা পরে বিবর্তনের ধাপ নিয়ে বর্তমান আধুনিক রেডিও-র পথ তৈরি করে।উদ্ভাবনের পর সমুদ্রে পাড়ি দেয়া নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য ব্যবহার হত রেডিওফোন। পরে বিবর্তনের রাস্তা ধরে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে রেডিও। হয়ে উঠেছে জীবনযাপনের অঙ্গাঙ্গী অঙ্গ।





Post a Comment