বিমান আকৃতির ব্যাগটির মূল্য একটি আসল বিমানের চেয়েও বেশি!

Odd বাংলা ডেস্ক: ব্যাগের আকৃতির কোনো নির্দিষ্টতা নেই। ত্রেতা আকর্ষণ বাড়াতে কোম্পানিগুলো নানান আকৃতির ব্যাগ তৈরি করে থাকেন। কখনো কখনো নিশ্চয় কুকুর কিংবা বিড়াল আকৃতির ব্যাগও দেখেছেন। এগুলো আসলে পোষ্যপ্রিয় মানুষদের বাড়তি আকর্ষণ পেতেই তৈরি করা হয়। 

তবে এবার শীর্ষ ফরাসী ফ্যাশন হাউসের অন্যতম লুই ভিটনের একটি ব্যাগ নিয়ে অনলাইনে চলছে তুমুল রসিকতা আর বিতর্ক। ব্যাগটির নকশা করেছেন লুই ভিটনের মেনসওয়্যার কালেকশনের শিল্প পরিচালক ভার্জিল আবলোহ। বিমান আকৃতির এই ব্যাগটির দাম ধরা হয়েছে একক ইঞ্জিনচালিত একটি প্রকৃত বিমানের চাইতেও বেশি!

ভার্জিল আবলোহ'র বিশেষত্ব হলো তিনি যা কিছুই নকশা করেন, তার পেছনে ব্যক্তিগত দর্শন ও ভাবনাকে এক করে ফেলেন। ফলে মাঝেমাঝেই এসব ভাবনা উদ্ভট নকশার খোরাক জোগায়। আবলোহ'র নকশাকৃত পণ্যও প্রায়শই সমালোচক এবং ফ্যাশন অনুরাগীদের বিভক্ত করে ফেলে। 

গত জানুয়ারিতে পুরুষদের জন্য উইন্টার কালেকশন প্রকাশ করে লুই ভিটন। বিখ্যাত স্থাপত্য এবং জনপ্রিয় সব ল্যান্ডমার্কের অনুকরণে সেসব পোশাকের নকশা করা হয়। কিন্তু সব ছাপিয়ে নেটিজেনদের আকর্ষণ কেড়ে নিয়েছে এই কালেকশনের একটি ব্যাগ। এর মূল কারণ বিমান আকৃতির ব্যাগটির গায়ে সেঁটে দেয়া হয়েছে ৩৯ হাজার ডলারের 'প্রাইস ট্যাগ'। 

পাখা, চাকা, ইঞ্জিন- সবমিলিয়ে 'কীপল' নামের এই ব্যাগটি দেখতে একেবারেই যেন খুদে বিমান। শুধু বাড়তি হিসেবে লুই ভিটনের অন্য সব পণ্যের মত এর গা জুড়েও প্রতিষ্ঠানটির মনোগ্রাম। আবলোহ'র এই  বিমান সদৃশ হ্যান্ডব্যাগের ছবিগুলো কয়েক মাস ধরে অনলাইনে প্রকাশিত হয়ে থাকলেও 'ভাইরাল' হয়েছে সম্প্রতি। যেখানে আমেরিকান ই-কমার্স সাইট ইবে-তে একটি সিঙ্গেল ইঞ্জিনের তৈরি সেসনা বিমানের মূল্যমান ৩২ হাজার ৩০০ ডলার। সেখানে এই ব্যাগের দাম এর প্রায় ৬ হাজার ডলার বেশি! 

মূল্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় আলোচনা- সমালোচনার ঝড়। ভালেস্কা নামক একজন টুইটারে টিপ্পনীর সুরে লিখেছেন, "আপনি তো এর চেয়ে কম মূল্যে একটি সত্যিকারের বিমান কিনে ফেলতে পারবেন"। 

লুই ভিটনের কিপল হ্যান্ডব্যাগটি শুধুই ফ্যাশনের উদ্দেশ্যে তৈরী নাকি প্রকৃতই এর ভিতর জিনিসপত্র পুরে একে সাধারণ ব্যাগের মত কাজে লাগানো যাবে সেটি এখনো স্পষ্ট নয়! ব্যাগটির ডিজাইনার নিজেও এ নিয়ে কোন বক্তব্য দেন নি। তবে অনেকেই ধারণা করছেন, ভার্জিল আবলোহ'র 'পর্যটক বনাম শুদ্ধবাদী' দর্শনের পরিণাম এই নকশা। 

জানুয়ারিতে ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে আবলোহ বলেন, "আমি যখন কোন একটি নকশা দাঁড় করাই তার পেছনে আমার সুস্পষ্ট নীতি কাজ করে। একজন পর্যটক হলেন সে যিনি শিখতে চান, জানতে চান, যিনি প্যারিসে এসেই আইফেল টাওয়ার দেখতে ছুটে যান। অন্যদিকে পিউরিস্ট বা শুদ্ধবাদী হলেন তিনি যার সবকিছু সম্পর্কে আগাধ জ্ঞান রয়েছে"। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.