দীর্ঘ দুই দশক এই শহরে গাড়ি নিষিদ্ধ, কিন্তু কেন?
Odd বাংলা ডেস্ক: গাড়ি ছাড়াও চলাচল সম্ভব। এর উদাহরণ হলো স্পেনের একটি ছোট্ট শহর পন্টেভেদ্রা। এই শহরে গাড়ি নিষিদ্ধ।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই শহরে গাড়ি নিষিদ্ধ। খুব প্রয়োজন ছাড়া এখানে গাড়ি চলাচল করে না। শহরের বাসিন্দারা হেঁটে বা বাই-সাইকেলে গন্তব্যে পৌঁছান। শহরটি ছোট হওয়ায় বাই-সাইকেলেই তা পার করা যায়।
১৯৯৯ সাল থেকে এই শহরে গাড়ি নিষিদ্ধ। জানেন কি কেন দুই দশক ধরে গাড়ি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই শহরে? মিগুয়াল অ্যাঙ্গসো ফারনানডেজ লরেস। পন্টেভেদ্রার মেয়র। এই নিয়ে চার বার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ১৯৯৯ সালে প্রথমবার মেয়র হওয়ার পরই তিনি গাড়ি নিষিদ্ধ করে দেন।
যানজট আর দূষণমুক্ত করে পন্টেভেদ্রাকে বাসযোগ্য করে তোলার পরিকল্পনা ছিল তার। আর শুধুমাত্র সে কারণেই গাড়ি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাতে জনগণ সাড়াও দেন। সে জন্য ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাকেই মেয়র নির্বাচিত করা হয়েছে।
১৯৯৬ থেকে ২০০৬, এই ১০ বছরে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৩০ জনের। এর পরের ১০ বছর অর্থাৎ ২০০৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ১০। এমনকি ২০০৯ সালের পর থেকে একটি মৃত্যুও পথ দুর্ঘটনার কারণে হয়নি বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন মেয়র নিজেই। পায়ে হেঁটে আর বাই-সাইকেলে যাতায়াত করার জন্য দূষণের মাত্রাও প্রচুর কমে গিয়েছে। পন্টেভেদ্রার বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে।
গাড়ির ভীড়ে অন্যান্য শহরে যেমন নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা, রাস্তায় পা ফেলার জায়গা পাওয়া যায় না, পন্টেভেদ্রায় ঠিক উল্টো। গাড়ির সংখ্যা কমে যাওয়ায়, মানুষের বসতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯৯ সালে গাড়ি নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে এই শহর ১২ হাজার নতুন বাসিন্দা পেয়েছে।
যাদের গাড়ি ছিল সেই গাড়িগুলোর কী হলো? সঠিক জানা নেই। তবে আগে যারা গাড়ি কিনেছিলেন তারা অনেকেই তা বেঁচে দেন। আর অনেকেই ইমারজেন্সি পরিস্থিতির জন্য রেখে দেন। খুব প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করা যায় না। আর এসব কারণে গাড়ি মুক্ত পন্টেভেদ্রা ২০১৪ সালে জাতিসংঘের হাবিট্যাট পুরস্কারও পেয়েছে।





Post a Comment