কোভিড যোদ্ধাদের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার জীবনবিমার প্রকল্প বন্ধ করে দিল মোদী সরকার
Odd বাংলা ডেস্ক: দেশে দিনে নতুন করে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই লক্ষ ছাড়িয়েছে। দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা দেড় হাজার পেরিয়েছে। রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার-নার্স-সহ প্রথম সারির করোনা যোদ্ধারা। টিকার দু’ডোজ নেওয়ার পরেও দিল্লি-সহ একাধি শহরের ডাক্তার-নার্সরা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এরই মধ্যে ‘কোভিড-যোদ্ধা’ ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার জীবনবিমার প্রকল্প বন্ধ করে দিল মোদী সরকার।
এক সময় যে করোনা-যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এমনকি হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়েছিল দিল্লি এইমস-সহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালে।গত বছর লকডাউন ঘোষণার পরেই মোদী সরকার ধুমধাম করে ঘোষণা করেছিল, কোভিডের মোকাবিলায় প্রথমসারিতে থাকা ডাক্তার-নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, নিকাশি কর্মী, আশা কর্মীদের এই বিমার আওতায় নিয়ে আসা হবে। কোভিডের মোকাবিলা করতে গিয়ে এই সমস্ত কর্মীদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে, তাঁর পরিবার ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন।
পরিসংখাযন বলছে, এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৮৭ জন ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীর পরিবার ৫০ লক্ষ টাকার বিমার সুবিধা পেয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রক অবশ্য ফেব্রুয়ারি মাসে সংসদে জানিয়েছিল, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া হিসেবে ৪৮৯ জন ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীর কোভিডে মৃত্যু হয়েছে। এঁদের মধ্যে ১৭৪ জন ডাক্তার, ১১৬ জন নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী ১৯৯ জন।
গত বছর কোভিড ও লকডাউনের মোকাবিলায় ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনা’ ঘোষণার সময়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছিলেন, সামনের সারিতে থাকা কর্মীরা নিজেদের কতখানি ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন, তা সরকার ভোলেনি। সেই কারণেই এই বিমা প্রকল্প। অনেকের মতে, সেই সময়ে মোদী সরকারের ধারণা ছিল, তিন মাসেই কোভিডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় করে ফেলা যাবে। তাই প্রাথমিক ভাবে ২০২০-র ৩০ মার্চ থেকে তিন মাসের জন্য এই বিমার সুবিধা চালু হয়। কিন্তু পরে তার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের ২৪ মার্চ করা হয়।





Post a Comment