যুদ্ধক্ষেত্রে কর্ণ অস্ত্র শিক্ষা কেন ভুলে গিয়েছিলেন জানেন?
Odd বাংলা ডেস্ক: কর্ণ সুতপুত্র বলে দ্রোণাচার্য তাকে অস্ত্র শিক্ষা দেননি। দ্রোণাচার্যের প্রত্যাখ্যানের পর কর্ণ দ্রোণাচার্যের গুরু পরশুরামের নিকট শিক্ষাগ্রহণের জন্য যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু পরশুরামের শর্ত ছিল তিনি শুধুমাত্র ব্রাহ্মণদের শিক্ষা দেবেন৷ সেই শিক্ষা নেওয়ার জন্য তখন কর্ণ নিজেকে ব্রাহ্মণ বলে পরিচয় দেন এবং পরশুরামও তাঁকে শিষ্য হিসাবে গ্রহণ করেন। তিনি কর্ণকে ব্রহ্মাস্ত্র ত্যাগ ও অস্ত্র সংবরণ করার পদ্ধতি শিখিয়ে দেন। শিক্ষার শেষে পরশুরাম তাঁকে নিজের সমতুল্য যোদ্ধা ও ধনুর্বিদ বলে ঘোষণা করেছিলেন।
কিন্তু একদিন পরশুরাম আশ্রমের কাছে এক জায়গায় কর্ণের কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। সেই সময় একটি বিছে জাতীয় কীট কর্ণের ঊরুতে দংশন করে। কিন্তু গুরুর নিদ্রাভঙ্গের হতে পারে এই ভেবে তিনি অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করেও কর্ণ নিশ্চল রইলেন। রক্তের ধারা পরশুরামের গায়ে লাগলে তাঁর ঘুম ভেঙে যায় এবং তিনি বুঝতে পারেন কর্ণ ব্রাহ্মণ নয় কারণ এত সহ্যশক্তি কোনও ব্রাহ্মণের থাকে না। অতপর কর্ণ নিজের নিজের পরিচয় জানাতে বাধ্য হন। পরশুরাম তাঁর এই মিথ্যাচারে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিশাপ দেন যে সংকটকালে দিব্যাস্ত্র ত্যাগের কৌশল তাঁর মাথায় আসবে না। কিন্তু কর্ণের অনলস অধ্যাবসায়ে খুশি হয়ে পরশুরাম তাঁকে ভাগবাস্ত্র নামক দৈবাস্ত্র ও বিজয় নামক ধনু উপহার দেন।
তবে শুধু অস্ত্র শিক্ষা ভোলাই নয় অর্জুনের সঙ্গে শেষ যুদ্ধের সময় এক ব্রাহ্মণের অভিশাপে তার রথের চাকাও মাটিতে ঢুকে যায় ৷ এর কারণ হল কর্ণ ধনুর্বিদ্যা অভ্যাসকালে একটি গাভীকে হত্যা করায় এক ব্রাহ্মণ তাঁকে শাপ দেন যে, মৃত্যুকালে কর্ণের রথের চাকা যখন মাটিতে বসে যাবে তখন সে এই গাভীর মতই অসহায় হয়ে পড়বে।তখনই অর্জুনের হাতে মৃত্যু হয় কর্ণের৷





Post a Comment