পুমা পুংকু: এই স্থাপত্য নির্মাণকে ঘিরে রয়েছে হাজারো রহস্য!
Odd বাংলা ডেস্ক: অতীতের অনেক নিদর্শন পাথর কেটে তৈরি করা হয়। সেসব নিদর্শন আমরা প্রায় দেখতে পাই। বিশ্বজুড়ে পাথর কেটে বিভিন্ন স্থাপত্য নির্মাণের অসংখ্য নিদর্শন আছে।
এর মধ্যে ‘পুমা পুংকু’ অন্যতম। ইতিহাসবিদরা ধারণা করেন, পাথরের এই কাজগুলো করা হয়েছিল প্রায় ১৭ হাজার বছর আগে। এর সূক্ষ্ম কাজ দেখলে মনে হতে পারে হীরা কাটা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ার রাজধানী লা-পাজ থেকে ৪৫ মাইল দূরে এন্ডিজ পবর্তের পাদদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ১২ হাজার ফুট উঁচুতে প্রাচীন এই ঐতিহ্য সত্যি এক বিস্ময়। ‘পুমা পুংকু’ শব্দের অর্থ হচ্ছে পুমার দরজা।
তার ভাষ্যমতে- ‘পুমা পুংকু’ প্রায় ১৫ হাজার বছরের পুরনো। পুমা পুংকু-এর আসল রহস্য তার পাথরের কাটিংয়ে। যেভাবে পাথরগুলো কাটা হয়েছিল তা বতর্মানের ডাইমন্ড কাটের সঙ্গে তুলনীয়!
নিদির্ষ্ট এ্যাঙ্গেল ব্যবহৃত হয়েছে যেমন- ৯০ ডিগ্রী, গোল সেপ, ওভাল শেপ। আবার নির্দিষ্ট দূরুত্বে গর্ত করা হয়েছে। একই মাপের একই সাইজের অসংখ্য ব্লক তৈরি করেছিল। এসব প্রমাণ করে তারা পরিকল্পনা করতে পারত মানে লিখতে পারতো, হিসাবও কষতে পারত!
লোকাল মীথ অনুযায়ী, এখানে ‘গড’রা বাস করতো। তাদেরকে কেন্দ্র করে টিয়ানাকু শহরটা গড়ে ওঠে অনেকটা তীর্থের মতো। আবার এনসিয়েন্ট এস্ট্রোনাট থিওরিস্টরা বিশ্বাস করে এটা ছিল বর্হিজাগতিক শক্তিদের বা এলিয়েনদের বাহনের উঠানামার জায়গা। অনেকটা এয়ারপোর্টের মতো।
তবে কে পুমা পুংকুর অবকাঠামো তৈরি করেছিল? অবকাঠামোটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল? কেন এই অবকাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন পর্যন্ত অজানা। এর গঠন, আকার এবং অবস্থান বেশ ভিন্ন ধরনের।
প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ধারণা করে থাকেন, পুমা পুংকুর এই বিশাল পাথরখণ্ডগুলো আনা হয়েছিল প্রায় ৬০ মাইল দূর থেকে। তবে পুমা পুংকু ১২ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, যার অর্থ হচ্ছে এ জায়গাটি ‘ন্যাচারাল ট্রি লাইন’ এর উপরে অবস্থিত, যেখানে কোনো গাছ জন্মাত না।
তাহলে সেখানে গাছ কেটে কোনো বাহন বা অন্য কিছু বানানো সম্ভব ছিল না। যার সাহায্যে এই বিশাল প্রস্তরখণ্ডগুলো দূর থেকে টেনে আনা যাবে এখানে। প্রশ্ন হচ্ছে- তাহলে কীভাবে এই বিশাল পাথরগুলোকে এখানে বয়ে আনা হয়েছিল?





Post a Comment