করোনার তৃতীয় ঢেউ আটকাতে পারে এগুলিই, কী বলছে মহামারির ইতিহাস?


Odd বাংলা ডেস্ক: ঠিক একশো আগে ভাইরাল ফ্লু-তে ৫০মিলিয়ন মানুষ সারা বিশ্বজুড়ে মারা গিয়েছিল। ১৯১৮ থেকে ১৯১৯, এই সময়কালে মহামারীর জেরে বিশ্বের জনসংখ্যার ৩% হ্রাস পেয়েছিল। ১৯১৮ সালের মার্চে আমেরিকায় ওই প্রথম ভাইরাল ফ্লু-টি কানসাসের একটি মিলিটারি ক্যাম্পে ধরা পড়ে। এর দ্বিতীয় ঢেউটি মারাত্মক আকারে সেদেশে প্রভাব ফেলেছিল এবং তৃতীয় ঢেউটি ১৯১৯ সালের প্রথমদিকে আরও ভয়ানক আকার ধারণ করে, যার ফলে অগণিত মানুষের প্রাণহানি ঘটায়। 

১০০ বছর পর ফের একটি মহামারী। ভারতে মহামারির ধাক্কায় ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষের প্রাণহাণি হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয় ঢেউ শেষ হয়নি। তার মধ্যে কেন্দ্র জানিয়েছে তৃতীয় ঢেউ অবশ্যম্ভাবী। তবে সত্যিই যদি তৃতীয় আসে, তাহলে তা আটকানো যাবে কীভাবে?

করোনার তৃতীয় ঢেউকে আটকাতে পারে একমাত্র সামাজিক দূরত্ব, মাস্কিং এবং অবশ্যই স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি। তৃতীয়টি সরকারের দায়িত্ব হলেও প্রথম দুটির জন্য সাধারণ মানুষকে এখন থেকেই সংযত থাকতে হবে এবং অবশ্যই করোনা বিধি মেনে চলতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে চরম বিপত্তির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।

ভাইরোলজিস্টদের মতে, ১০০ বছর আগে ওই ভাইরাসের প্যাথোজেন ধ্বংস হলেও সেগুলি নানা আকারে ফিরে আসতে পারে। আর সেগুলির উদাহরণ, ১৯৫৭-৫৮ সালের H2N2 ভাইরাস, ১৯৬৮ সালের H3N2 ভাইরাস, ২০০৯ সালের H1N1pdm09 ভাইরাস। ড. শাহিদ জামিল বলেন, যখন কোনও ভাইরাসের দ্বারা বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়ে যাবেন তখনই মানুষের দেহে অ্যান্টিবডির সৃষ্টি হবে তারপরেই ভাইরাসের বিলুপ্তি ঘটবে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী কোনও ঢেউ তখনই আটকানো সম্ভব যখন সেই দেশের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষের ভ্যাক্সিনেশন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ভারতে মাত্র ৩% মানুষের ভ্যাক্সিনেশন হয়েছে।

সপ্তম কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব লভ ভার্মা জানান, অবিলম্বে ভারতের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজানো দরকার। ২০১৭-র জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি অনুযায়ী, ভারতে জিডিপির ২.৫% স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা উচিত কিন্তু বর্তমানে ১.৪% স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.