শুধু তাজমহল নয়, লালকেল্লাও বেচে দিয়েছিলেন তিনি!

Odd বাংলা ডেস্ক: একবার নয় তিন তিনবার একই ব্যক্তি সম্রাট শাহজাহানের সেই বিখ্যাত প্রেমের সমাধি বিক্রি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, লালকেল্লা, এমনকি রাষ্ট্রপতি ভবনসহ, ভারতীয় সংসদ ভবনও বিক্রি করেছিলেন মোটা অঙ্কের বিনিময়ে। এছাড়াও অন্যদের সবাক্ষর নকল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

ভারতের সেই প্রতিভাবান ব্যক্তি হচ্ছেন মিথিলেশ কুমার শ্রীবাস্তব। ইতিহাসে তিনি নটবরলাল নামেই খ্যাত। তাকে ভারতের সর্বকালের সেরা প্রতারকের আখ্যা দেয়া হয়েছিল। তার অপরাধগুলো এখনো যে কাউকে ধাঁধা ধরিয়ে দিতে পারে। ১৯১২ সালে ভারতের বিহারের জিরাদাই জন্ম হয় মিথিলের শ্রীবাস্তবের। মেধাবী মিথিলেশ সে স্নাতক পাশ করার পরেই আইন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। কিন্তু তখন থেকেই সে প্রতারণা শুরু করে।

নিজের গ্রামের এক লোকের সঙ্গে তিনি প্রথম প্রতারণা করেন। সেই ব্যক্তি শহরের ব্যাংকে টাকা জমা করতে দিয়েছিলেন। জমা করার সময় ওই ব্যক্তির সই নকল করে ব্যাংক‌ থেকে প্রায় এক হাজার টাকা তার অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেন। ১৯৩০ সালের দিকে এক হাজার টাকার বর্তমান মূল্য আশা করি অনুমান করতে পারছেন।

একদিন ধরা পড়ে যায় সে ধরা পড়ে যায় তার বাবার কাছে বাবার শাসনে সে ঘর ছেড়ে পালায় কলকাতায়। কলকাতায় এক ব্যবসায়ীর ছেলেকে টিউশন পোড়ানো শুরু করেন। সে সেই ব্যবসায়ীকে ঠকিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর ছেষট্টি বছর ধরে ভারতের আট রাজ্যে পঞ্চাশটি ছদ্মনাম ব্যবহার করে প্রায় চার হাজার লোককে ঠকিয়ে সে কোটি টাকা উপার্জন করেন মিথিলেস। 

ছদ্মবেশ ধরায় অসম্ভব পটু ছিলেন নটলাল। প্রতারণা নিত্যনতুন আইডিয়া আবিষ্কার করতে তিনি যেমন তুখোড় ছিলেন তেমনি ইংরেজি বলতে তুখোড় ছিলেন। এছাড়াও মানুষের স্বাক্ষর জাল করায় সে ছিল ওস্তাদ একবার কারোর স্বাক্ষর দেখেই সে স্বাক্ষর নিখুঁতভাবে নকল করতে পারত। বেশিরভাগ লোককে সে ঠকিয়েছে তাদের সই জাল করে।

আইনজীবী হওয়ায় জমিজমা কাগজপত্রের খুঁটিনাটি জানতো নটবরলাল। তাজমহলের মালিকানা তার এই মর্মে প্রয়োজনে সব কাগজ ও সরকারি নথিপত্র জোগাড় করে সে তাজমহল‌ বিক্রি করে ছিলেন বিদেশিদের কাছে তিনবার । শুধু তাজমহল নয় লালকেল্লাও বেচে দিয়েছিলেন দুবার এছাড়াও প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের সই নকল করে সরকারি নির্দেশ জারিও করেন।

১১৩ বছরের কারাদণ্ডেও দণ্ডিত হন নটবরলাল। কিন্তু পুলিশ বেশিদিন তাকে আটকে রাখতে পারেনি। 

জেল পালানোর বিষয়েও তিনি ধূর্ত ছিলেন। একবার ১৯৫৭ সালে নটবরলাল কানপুর জেল থেকে পালিয়ে যান। একটি সুটকেস ভরা টাকা দেখিয়ে কারারক্ষীদের ঘুষ দিয়ে সামনের গেট দিয়ে পালিয়ে যান নটবরলাল। এরপর কারারক্ষীরা সুটকেস খুলে দেখেন সংবাদপত্রে ঠাসা। তার জীবনকালে মোট ২০ বছর কারাভোগ করেছেন নটবরলাল।

২০০৯ সালের ২৫ জুলাই মারা গিয়েছিলেন নটবরলাল। যদিও তার আসল মৃত্যু তারিখ জানা যায়নি।

ইতিহাসে তিনি প্রতারকের তকমা পেলেও বাংরার মানুষের কাছে নটবরলাল আজও এক গর্বের নাম। তার জীবনী নিয়ে দুটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তার মধ্যে ১৯৭৯ সালে ‘মি. নটবরলাল’ এবং ২০১৪ সালে ‘রাজা নটবরলাল’ । এ ছাড়াও নটবরলালের জীবনী নিয়ে ডকুমেন্টরিও তৈরি হয়েছে। যা একটি ক্রাইম টেলিভিশন প্রোগ্রামে ২০০৪ সালে প্রচার হয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.