১৩৭ বছর আগে তোলা বিশ্বের প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের ফটোগ্রাফ!
Odd বাংলা ডেস্ক: ছবিটি দেখে হয়তো শুধু পুরো একটি ছবি বলেই মনে হবে যে কারো। সময়ের আঘাতে বেশ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। তবে এটি ফ্যাকাশে হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক ইতিহাস। ছবিটি ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই চোখে পড়বে একটা লম্বা ধোঁয়ার মতো জিনিস ওপরে উঠে মেঘের মধ্যে মিলিয়ে যাচ্ছে। কলকারখানার ধোঁয়া বের করার চিমনি ভাবতে পারেন অনেকে। আসলে এটি কারখানার চিমনি থেকে বেরনো কালো ধোঁয়ার নয়, এই ছবি টর্নেডোর।
লম্বা ফানেলের মতো জিনিসটা যেটা আকাশ থেকে নেমে এসেছে, সেটাই। আর বেশ অনেকের মতে, ১৮৮৪ সালে তোলা এই ছবিটিই ঘূর্ণিঝড়ের সর্বপ্রথম ফটোগ্রাফ। যে সময় আবহাওয়ার খবর আগে থেকেই পাওয়া যেত না। এজন্য ক্ষয়ক্ষতিটাও বেশি হত। আর এই দুর্যোগের মধ্যে প্রাণ বাঁচানোর চিন্তা বাদ দিয়ে কেউ ছবি তোলার কথা ভাবতেও পারত না। আজকের মতো এত প্রযুক্তিও ছিল না। তাই বলে তো আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেমে থাকবে না। বৃষ্টিও হবে, প্রখর গরমও পড়বে; আবার ধেয়ে আসবে টর্নেডোও। ১৮৮৪ সালের এইরকমই একটি দিনে আমেরিকার সিগন্যাল কর্পস লক্ষ্য করে, একটি লম্বা ফানেলের মতো জিনিস কানসাস থেকে ক্রমশ কলোরাডোর দিকে যাচ্ছে। এটা যে ভয়ংকর একটি ঘূর্ণিঝড়, সে সম্পর্কে আর কোনো দ্বিমত রইল না।
যখন ইউএস সিগন্যাল কর্পস এটা লক্ষ করল, ততক্ষণে টর্নেডো নিজের খেলা দেখাতে শুরু করে দিয়েছে। ওই যে, প্রযুক্তির বাধা। আগে থেকে বাসিন্দাদের কাছে খবরও পৌঁছানো যায় না। কাজেই অগ্রিম সতর্কতার কোনো প্রশ্নই নেই। যাই হোক, টর্নেডো তো কলোরাডোর দিকে এগোচ্ছে। তার রাস্তার মাঝখানে পড়ল গারনেট নামের একটি জায়গা। সময়টা আন্দাজ বিকেল সাড়ে পাঁচটা। গারনেটের বাসিন্দারা জানলা দিয়ে দেখলেন সেই বীভৎস দৃশ্য। যেন দৈত্য যাচ্ছে। এদের মধ্যে ছিলেন এ.এ.অ্যাডামস। তিনি পরিচিত একজন স্থানীয় ফলচাষী হিসেবে। অন্যদিকে শখের ফটোগ্রাফির তিনি। টর্নেডোর এই দৃশ্য দেখার পর ঠিক করলেন, একে ক্যামেরাবন্দি করতেই হবে।
তখনকার দিনে তো আজকের মতো ডিএসএলআর বা নিদেনপক্ষে মোবাইল ক্যামেরাও ছিল না। মূলত ছিল বক্স ক্যামেরা। সেটাই গুছিয়ে ঠিকঠাক করলেন অ্যাডামস। তার আর টর্নেডোর মধ্যে দূরত্ব তখন ১৪ মাইল। ওই ক্যামেরা দিয়েই একটি ছবি তুললেন তিনি। যে ছবিটার বর্ণনা একদম শুরুতে দেয়া হল, এটাই সেই ছবি। সামনে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি বাড়ি; আর পেছনে ঘন মেঘ থেকে সুতোর মতো নেমে আসছে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত! কানসাস হিস্টোরিকাল সোসাইটির গবেষণা অনুযায়ী, অ্যাডামসের তোলা এই ছবিটিই টর্নেডোর সর্বপ্রথম ফটোগ্রাফ। এরপর আরও কত ছবি তোলা হয়েছে। আজও তোলা হচ্ছে। এখনকার দিনের প্রযুক্তিও অনেক উন্নত। তবে পুরনো সেই দিনের কথা তো আর ভোলা যায় না। ১৩৭ বছর আগের সেই দিনটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে এই ছবির দিকে তাকালে।





Post a Comment