Odd বাংলা ডেস্ক: বাংলার বাঘ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় বহুবার এই অভিযোগ উঠেছে যে বিশ্ববিদ্যালয় সাংঘাতিক ধরনের কঠিন প্রশ্নপত্র তৈরি করে। আশুতোষ বাবুর কানে বিষয়টা গিয়েছিল। তিনি সর্বক্ষণ ছাত্রদের জন্য যে বিষয়টা ভাল সেদিকেই নজর দিতেন। একদিন গণিতের পণ্ডিত অধ্যাপক গৌরীশঙ্কর দে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করে নিয়ে গেলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি। গৌরীশঙ্কর দে তার কাছে গিয়ে বললেন, 'স্যার, অঙ্ক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি, যদি একটু দেখে দেন।' আশুতোষ তার হাত থেকে কাগজটা নিয়ে চোখ বুলিয়ে একটু গম্ভীর হলেন। তারপর মুখে 'হুম' শব্দ করে বললেন, গৌরীবাবু আপনার হাতে ঘন্টা আড়াই সময় আছে? গৌরীশঙ্কর দে কিছু না বুঝেই বললেন, 'আজ্ঞে তা আছে, কেন স্যার?' আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তখন গৌরীশঙ্কর দে'র জন্য কাগজ-কলমের ব্যবস্থা করে দেন। তখন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় গৌরীশঙ্কর দে'কে বললেন, 'আমি স্নানটা সেরে আসি বুঝলেন, আপনি ততক্ষণে যে প্রশ্নপত্রটি তৈরি করেছেন তার অঙ্কগুলো বরং কষে ফেলুন। তারপরই আশুতোষ কাঁধে গামছা ফেলে চলে গেলেন স্নানে।' কথা শুনে গৌরীশঙ্কর দে'ও অঙ্ক কষতে বসে গেলেন।
ঝাড়া আড়াই ঘন্টা বাদে তার সামনে এলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। তখন পরীক্ষা হত আড়াইঘন্টার। আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তাকে বললেন, আড়াই ঘন্টা কিন্তু ওভার গৌরীবাবু। আপনার প্রশ্নপত্রের সব অঙ্ক কষে ফেলেছেন তো? গৌরীশঙ্কর দে বললেন, 'না স্যার, দু'তিনটে এখনো বাকি আছে।' এবার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় হেসে বললেন, 'তাহলেই বুঝুন, নিজের তৈরি প্রশ্নপত্র আপনার মতো পণ্ডিত মানুষের যদি আড়াই ঘন্টা পার হয়ে যায়, অল্পমেধার ছাত্রছাত্রীরা পারবে কেমন করে? যান, বাড়ি গিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় তাদের কথা মাথায় রেখে নতুন করে একখানা প্রশ্নপত্র তৈরি করুন।'





Post a Comment