বয়স্কদের মৃত্যুর ভবিষ্যৎ বলে দেবে ক্যালকুলেটর!
Odd বাংলা ডেস্ক: মানুষের মৃত্যু নিয়ে আগাম কোনো তথ্য কেউ বলে দিতে পারে না। জন্মের পর মৃত্যু অবধারিত হলেও তা কখন হবে, সেই নিশ্চয়তা এখন পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি।
কিন্তু নতুন একটি অনলাইন ক্যালকুলেটর উদ্ভাবন করা হয়েছে, যাতে ষাটোর্ধ্ব মানুষের সম্ভাব্য মৃত্যুর আগাম খবর দিতে পারে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রটি আভাস দিতে পারবে যে কখন বয়স্ক মানুষটি মারা যেতে পারেন।
বিজ্ঞানীদের দাবি, বয়স্কদের পরিবর্তিত প্রয়োজন বুঝতে এই ক্যালকুলেটর সহায়তা করবে। এতে কীভাবে তাদের যত্নআত্তি করা হবে, সেই পরিকল্পনা করতে পরিবারগুলোকে সহায়তা করবে। কানাডীয় মেডিকেল এসোসিয়েশন জার্নালে এ নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বাড়িতে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়েছে, এমন চার লাখ ৯১ হাজারের বেশি বৃয়স্ক মানুষের উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে মারা যেতে পারেন, এমন বৃদ্ধদের ওপর বেশি আলোকপাত করা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, যাদের স্বাস্থ্য খুবই নাজুক, তাদের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত আয়ু চার সপ্তাহেরও কম হতে পারে। স্ট্রোক, স্মৃতিভ্রষ্টতা, উচ্চরক্তচাপ শনাক্ত হয়েছে কিনা, বয়স্কদের এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। অথবা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাদের কর্মক্ষমতা কমে গেছে কিনা, তাও জেনে নেওয়া হয়েছে। খবর ডেইলি মিররের।
বয়স্কদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। তাদের বমি আসা, শরীর ফুলে যাওয়া, শ্বাস নেওয়ার দুর্বলতা, অপরিকল্পিত ওজন কমে যাওয়া, পানিস্বল্পতা ও ক্ষধামন্দা নিয়ে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।
এসব রোগীদের ছয় মাসের মধ্যে মৃত্যুর ভবিষ্যৎ বলে দিয়েছিল ওই অনলাইন ক্যালকুলেটর। এটির নাম দেওয়া হয়েছে, রিস্ক ইভ্যালুয়েশন ফর সাপোর্ট: প্রেডিকশনস ফর এল্ডার-লাইফ ইন দ্য কমিউনিটি টুল (আরইএসপিইসিটি)।
গবেষকেরা দেখেছেন, কোনো ব্যক্তির অন্যান্য রোগের চেয়ে প্রত্যহিক জীবনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অক্ষমতা ছয় মাসের মধ্যে মারা যাওয়ার জোরালো আভাস দেয়।
কানাডার ওটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডা. অ্যামি এইচসু বলেন, আরইএসপিইসিটি ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে স্বজনেরা তাদের পরিবারের বয়োবৃদ্ধদের নিয়ে সহজে পরিকল্পনা করতে পারবেন। বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে কখন অফিস থেকে ছুটি নেবেন কিংবা সর্বশেষ একসঙ্গে পারিবারিক অবকাশে বের হওয়া নিয়ে সন্তানেরা ভাবার সুযোগ পাবেন।
ওটোয়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. পেটার টানুসেপুত্র বলেন, এটি ব্যবহার করলে বৃদ্ধদের কোথায় চিকিৎসা দেওয়া হবে কিংবা কোথায় নিয়ে যেতে হবে, তা নিয়ে পরিবারগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবেন।





Post a Comment