উটের গায়ে বাহারি নকশা, ঐতি‌হ্যকে স‌ঙ্গে নিয়ে বাড়া‌চ্ছে আকর্ষণ

Odd বাংলা ডেস্ক: ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কোরবানির পশু। আমাদের দেশসহ সারাবিশ্বে জমে উঠেছে পশুর হাট। পশুর হাট কিংবা কোরবানি কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে নানা রকম কাজ আর উপার্জনের পন্থা। পাকিস্তানের পশুর হাটগুলো নজর কাড়ছে শরীরে বাহারি নকশা আঁকা উট। সেখানে কোরবানির জন্য উটের কদর সবচেয়ে বেশি। আর ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতেই এভাবে সাজানো হয় উটগুলোকে।  

আমাদের দেশে গরু, ছাগল, ভেড়া কোরবানির জন্য বেশি দেখা যায়। তবে কিছু বছর ধরে কোরবানির হাটে নজর কাড়ছে উট। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং পাকিস্তানে আছে উটের বহুল ব‍্যবহার। মালবোঝাই, যাত্রী বোঝাই ছাড়াও আরো একটি বিস্ময়কর কাজে ব‍্যবহার করা হয় এই উটগুলোকে। আর তা হলো শিল্পচর্চা! 

কোরবানির জন্য উটের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে বাহারি নকশা। এই শিল্পের নাম ক্যামেল হেয়ারকাট আর্ট। উটের লোম ছাটাই করে সুন্দর সুন্দর নকশা করার  ব‍্যাপক প্রচলন দেখা যায় ভারত এবং পাকিস্তানে। কোরবানি ঈদে পশুর দাম বেশি পাওয়া যাবে এজন্য সিন্ধু প্রদেশ থেকে নকশাকারদের ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়। এক একটা উটের গায়ে নকশা করতে উটের আকার এবং নকশাভেদে গড়ে ২ থেকে ৮ ঘন্টা লাগে। এবং নরসুন্দরেরা উট মালিকের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন থিমের নকশা কেটে যান উটের লোমে। নকশা তৈরির পূর্বপরিকল্পনায় ব‍্যবহৃত হয় দড়ি। দড়ির সাহায্যে উটের শরীরে কিছু মাপ এঁকে নেয়া হয় যাতে করে দুইদিকেই একই রকম নকশা তৈরি হয়। আর সূক্ষ্ম নকশা তৈরিতে আঙ্গুলের মাপ ব‍্যবহার করা হয় । আর এই গোটা নকশা তৈরিতে কমবেশি দুই থেকে তিন হাজার  রূপী পারিশ্রমিক নেন তারা।


উটের গায়ের পশম দিয়ে করা নানা নকশায় ফুটে উঠেছে।  তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় , এই অকল্পনীয় সুন্দর নকশাগুলো তৈরি করতে তারা ব‍্যবহার করেন শুধুমাত্র একজোড়া ধারালো কেচি। ফুল, লতাপাতাসহ নানান জ্যামিতিক নকশা আকর্ষণীয় রূপ দিচ্ছে উটের। এখানে সবচেয়ে বেশি ফুলের নকশার চাহিদা বেশি। ক্রেতারাও এটি বেশি পছন্দ করেন। তবে গোল আর আঁকাবাঁকা নকশাগুলো করা সবচেয়ে কঠিন। একেকটি উটের শরীরে নকশা করতে একজন নকশাকারের সময় লাগে ৫ ঘণ্টার বেশি। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.