ডোরেমন কার্টুনের নবিতার নামে নতুন প্রজাতির ডাইনোসর !
Odd বাংলা ডেস্ক: ডোরেমন হলো একটি মাঙ্গা সিরিজ। সারা বিশ্বের সবচেয়ে অর্থ উপার্জনকারী আনিমেটেড ফ্রাঞ্চেইজি হিসেবে এটি পরিচিত। সারা পৃথিবীর লাখ লাখ ছোট বাচ্চারা এই কার্টুনটি দেখে। সেই ১৯৬৯ সাল থেকে এটি চলে আসছে এবং এখনো সমান জনপ্রিয় রয়েছে।
জনপ্রিয় এই চরিত্রটির নেই তথাকথিত কোনো চাকচিক্য, স্কুল পড়ুয়া নবিতার পড়ালেখায় ব্যাপক অনীহা, যে কোনো সমস্যায় পড়লেই কেঁদে ভাসায়। আর তখন সাহায্য চাইতে ছুটে যায় তার বেস্টফ্রেন্ড ডোরেমনের কাছে। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এ চরিত্রটির নামে এবার সম্প্রতি সন্ধান পাওয়া একটি নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের নামকরণ করা হয়েছে।
চীনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০২০ সালে সন্ধান পাওয়া নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের নাম রাখা হচ্ছে ইউব্রোন্তেস নবিতাই। ডোরেমন কার্টুনের নবিতার নামানুসারেই নামটি রাখা হয়েছে। বেইজিং এর চায়না ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়ামের জার্নাল অব প্যালেঅন্টোলজিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ডাইনোসরটি সন্ধান পাওয়া দলের সদস্য সহযোগী অধ্যাপক শিং লিডা কিয়োডো নিউজকে বলেন, চীনে ১৯৮০'র দশকে যারা জন্মেছিলেন তাদের শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই কার্টুনটি। একারণেই এই নামকরণ করা হয়।
তিনি আরো জানান, কার্টুনটিতে ডাইনোসরের চিত্রায়ন ছিল অসাধারণ। তা দেখেই অনেক শিশু-কিশোর বহুকাল আগে থেকেই এই প্রাণিটি সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
তিনি আরো জানান, ফসিলটির একটি রেপ্লিকা টোকিও ন্যাশনাল মিউজিয়াম ও ফুজিকো কো লিমিটেডে পাঠানো হয়েছে। ফুজিকো কো লিমিটেডই কার্টুনটির প্রযোজনা কোম্পানি। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে রেপ্লিকা প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করছে জাদুঘরটি।
২০২০ সালের জুলাইতে বিজ্ঞানীদের দলটি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচুয়ান প্রদেশে বেশকিছু পদচিহ্ন খুঁজে পায়। তারা ধারণা করছিলেন ওই পদচিহ্ন ক্রিটেসিয়াস যুগের কোনো ডাইনোসরের। ক্রিটেসিয়াস যুগেই ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে যায়।
এই চিহ্নগুলো স্থানীয়দের কাছেও সুপরিচিত ছিল। তবে তারা ভাবতে পারেননি এর সঙ্গে ডাইনোসরের সম্পর্ক থাকতে পারে। ওই অঞ্চলটিকে ফসিল আবিষ্কারের হটস্পট বলা যায়, বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন ওই অঞ্চলের লোককাহিনীতেও এর উল্লেখ আছে। ডাইনোসরের এই প্রজাতি তাদের কিছু চিহ্ন ফেলে যাওয়ায় এই প্রজাতিটিকে বিজ্ঞানীরা ইকনোস্পেসিস হিসেবেই অভিহিত করেছেন। ডাইনোসরটির বৈজ্ঞানিক নামের প্রথমাংশ ইউব্রোন্তেসের অর্থ জীবাশ্মযুক্ত ডাইনোসরের পদাঙ্ক।
দীর্ঘ ৫২ বছর পরে সব জায়গায় কার্টুনটির চরিত্রগুলোর আদলে বানানো নানা ধরনের সৌখিন জিনিস চোখে পড়ে। ডোরেমন হলো একটি রোবটিক বিড়াল। নবিতা ও তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন আরো সহজ ও সুন্দর করে তুলতে ডোরেমনকে ২২ শতাব্দী থেকে অতীতের পৃথিবীতে পাঠানো হয়।
ডোরেমন ও নবিতা দুটি চরিত্রই গড়পড়তা ধরনের চরিত্র। ডোরেমনের কাজের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য সে অতীতের পৃথিবীতে চলে আসে। অন্যদিকে নবিতা চরিত্রটি আর দশজন সাধারণ শিশুর চেয়ে বিভিন্ন কাজে দুর্বল হলেও তার দয়াশীলতা ও সাহসের জুড়ি মেলা ভার। অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার করে বেড়ানো তাদের অন্যতম কাজ, এ নিয়েই আবর্তিত হয় কার্টুনটির গল্প।





Post a Comment