মোনালিসার সাত রহস্য ! জানলে চমকে যাবেন
Odd বাংলা ডেস্ক: মোনালিসা খুবই পরিচিত একটি নাম। যে নাম জুড়ে রয়েছে হাসি। তবে এ কোনো সাধারণ হাসি নয়। এটি এক রহস্যময় ভূবন জুড়ানো হাসি। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা মোনালিসার এই ছবিটি সারা দুনিয়ার মন কেড়ে নিয়েছিল।
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এমন একজন ব্যাক্তি ছিলেন, যিনি বিজ্ঞান বা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে তিনি তার প্রতিভা দেখাননি। তার শিল্পকর্মগুলি ছিল অসাধারণ রহস্য পরিপূর্ণ। তার এই অসাধারণ সৃষ্টি “মোনালিসা” ছবিটি। মোনালিসা ছবিটি ছিল লিওনার্দো দা ভিঞ্চি-র সব থেকে প্রিয় ছবি। এই কারণে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি যখনই যেখানে যেতেন, সঙ্গে করে এই ছবিটি নিয়ে যেতেন। তিনি যখন এই ছবিটি আঁকতে শুরু করেন তখন তার বয়স ছিল ৫১ বছর। এখনো মানুষের কাছে “মোনালিসা” রহস্যময়।
অবাক করার মতো বিষয় হলেও, মনকাড়া হাসির জন্য কয়েক শতাব্দী ধরে সারা দুনিয়ায় আলোচনার বিষয় ছিল ‘মোনালিসা’। আজও এই শিল্পকর্ম বহু শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সঙ্গীতশিল্পী এবং লেখককে অনুপ্রেরণা জোগায়। ৫০০ বছরের ইতিহাস মোনালিসার এই চিত্র এখনো মানুষকে আবিষ্ট করে। অনেকেই এখনো গভীরভাবে তাকিয়ে থাকে মোনালিসার দিকে। নিবিড়ভাবে চেষ্টা করে যায় তার হাসির রহস্য খুঁজে বের করার।
তবে এই ভূবন জুড়ানো হাসির মোনালিসার সাতটি তথ্য হয়তো এখনো আপনার অজানা। চলুন আজ জেনে নেয়া যাক মোনালিসার সাতটি অজানা তথ্য সম্পর্কে-
> ১৬ শতকের শুরুতে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি যার ছবি আঁকেন তা নিয়ে নানান ধরনের জল্পনা-কল্পনা ছিল। অনেকে বলতেন, নারী ও পুরুষ উভয়েই ওই ছবির মডেল হয়েছিলেন। তবে আরো ব্যাপকভাবে স্বীকৃত ব্যাখ্যা মতে, মোনালিসা আসলে ফ্লোরেনটাইনের এক রেশম ব্যবসায়ীর স্ত্রী লিসা দেল জিওকোন্ডো।
> ১৫১৯ সালে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মৃত্যুর পর ফরাসি রাজাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছবিটি রাখা হয়। ফরাসি বিপ্লবের পর নেপোলিয়ন বোনাপার্টের শোবার ঘরে জায়গা হয় মোনালিসার। ১৮১৫ সালে জনসাধারণের দেখার জন্য এই চিত্রকর্ম রাখা হয় প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে।
> যমজ মোনালিসার দেখা মেলে মাদ্রিদের মিউজিও ডেল প্রাডোতে। ২০১২ সালে জানা যায় যে এই ছবিটি মূল ছবির সময়েই আঁকা হয়েছিল। দুটি ছবি একই ইতালীয় ব্যাকগ্রাউন্ড ও ল্যাণ্ডস্কেপে করা। দ্বিতীয় ছবিটি সম্ভবত ভিঞ্চির এক ছাত্র ফ্রান্সিসকো মেলজির আঁকা।
> হারিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত ‘মোনালিসা’ কিন্তু সেই অর্থে বিখ্যাত কোনো শিল্পকর্ম ছিল না। নিজের দেশে ফেরত নিয়ে যাবার আশায় এক ইতালীয় ১৯১১ সালে প্যারিসের ল্যুভর থেকে ছবিটি চুরি করে। ওই ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার আগে প্রায় দুই বছর ছবিটির কোনো হদিস ছিল না। তারপর ছবিটি আবারও ল্যুভরে ফিরে আসে।
> মোনালিসাকে নিয়ে অনেকে অনেক ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করে থাকেন, যার সবই কিন্তু ইতিবাচক নয়। ১৯৫৬ সালে এই ছবির ওপর ভাঙচুরের দুটি ঘটনা ঘটে। একজন তো ছবিটির ওপর অ্যাসিড ছুঁড়ে মারে। ফলে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় চিত্রকর্মটি। এরপর এক বলিভিয়ান পর্যটক এর ওপর পাথর ছোঁড়ে। তারপর থেকে, মোনালিসাকে বুলেটপ্রুফ কাঁচের ভেতরে সুরক্ষিত রাখা হয়।
> অগণিত বিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ এই শিল্পকর্মের বিশ্লেষণ করেছেন। পেয়েছেন বিস্ময়কর সব তথ্য। ২০০৮ সালে, মোনালিসার হেঁয়ালিপূর্ণ হাসির রহস্য ভেদ করা হয়। ছবি আঁকার একটি কৌশলের নাম ‘স্ফুম্যাটো’। ভিঞ্চি ঝাপসা এক ধরণের এফেক্ট তৈরি করতে রঙের পাতলা অনেকগুলো স্তর তৈরি করতেন। এর ফলেই ছবিতে সৃষ্টি হতো এক ধরনের রহস্যময়তা।
> শিল্পের ইতিহাসে ‘মোনালিসা’ কেবল প্রশংসাই লাভ করেনি, বরং অগণিত শিল্পীকে বৈচিত্রপূর্ণ কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। বিংশ শতাব্দীর এই মিডিয়া আইকনকে সাহিত্য, সঙ্গীত, বিজ্ঞাপন সবকিছুতেই পাওয়া যায়। বব ডিলান একবার বলেছিলেন, মোনালিসার অবশ্যই হাইওয়ে ব্লুজ আছে। ওর হাসি দেখেই তা বলে দেয়া যায়।





Post a Comment