প্রাচীন রোম ও ভেস্টাল ভার্জিনদের নৃশংস শাস্তি

Odd বাংলা ডেস্ক: প্রাচীন রোমে ‘ইমিউরেমেন্ট’র প্রচলন ছিল। সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভেস্টাল ভার্জিনরা এর শিকার হতো। রোমান দেবী ভেস্তার সেবা করা কুমারী সন্ন্যাসিনী দেরকেই ভেস্টাল ভার্জিন বলা হয়। তারা সতীত্বের ব্রত ভঙ্গ করলে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। যার শাস্তি ছিল নির্মমভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। এই সন্ন্যাসিনীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য ছিল ভেস্তার মন্দিরে চিরস্থায়ী আগুনকে রক্ষা করা। যে আগুন শহরটির ভেস্তার সুরক্ষার প্রতিনিধিত্ব করতো এবং এই পবিত্র শিখা নিভে যাওয়া ভয়াবহ শুভ কাজ হিসেবে বিবেচিত হতো। ভেস্টাল ভার্জিনদের রোমের ভালোমন্দ দেখারও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসবের জন্য জাঁকজমকপূর্ণ সুযোগ-সুবিধাও পেতো তারা।

তবে, কোনো ভেস্টাল ভার্জিন নিজের কর্তব্য অবহেলা করলে তাকে ভয়াবহ শাস্তি দেওয়া হতো। সতীত্বের ব্রত ভঙ্গ করা একজন ভেস্টাল ভার্জিনের জন্য সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। কারণ, তারা সতীত্বের ব্রত রক্ষার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতো, সেকারণেই এটি বিশ্বাসঘাতকতার সমতুল্য হিসাবে বিবেচিত ছিল প্রাচীন রোমের বাসিন্দাদের কাছে। সতীত্ব ভাঙা ভেস্টাল ভার্জিনদের আমৃত্যু একস্থানে আটকে দেওয়া হতো।

রোমান লেখক প্লিনি দ্য ইয়ুঙ্গার-এর একটি চিঠিতে এমন শাস্তি প্রাপ্ত একজন ভেস্টাল ভার্জিনের শেষ পরিণতির বর্ণনা পাওয়া যায়। সম্রাট ডোমিশিয়ান কর্তৃক কর্নেলিয়া নামের একজন ভেস্টাল ভার্জিনের ‘ইমিউরেমেন্ট’ সম্পর্কে নিজের এক বন্ধুকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন প্লিনি দ্য ইয়ুঙ্গার। এছাড়া অ্যান্থন স্মিথের লেখাতেও ভেস্টাল ভার্জিনদের এমন মৃত্যুদণ্ডের বর্ণনা পাওয়া যায়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.