Odd বাংলা ডেস্ক: পৃথিবীতে একমাত্র মা-বাবাই নিঃস্বার্থভাবে সার্বক্ষণিক সন্তানদের মঙ্গল কামনা করেন। তবে সন্তানদের মঙ্গল কামনায় বা সন্তান লালন পালনে পুথিবীর বিভিন্ন দেশে যে কত ধরণের অদ্ভুত অদ্ভুত পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়ে থাকে, সেগুলাে জানলে অবাক না হওয়ার উপায় নেই। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক বিশ্বজুড়ে সন্তান লালন-পালনের এমনই কিছু অদ্ভুত রীতি সম্পর্কে-
নরওয়ে
নরওয়ের বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের বরফ শীতল তাপমাত্রায় বাড়ির বাইরে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। প্রচন্ড শীতে যেখানে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দায়, ঘরে এসে গরম খাবার বা পানীয় খেতে হয়, সেখানে নরিয়ানরা তাদের বাচ্চাদের বাইরের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় রেখে দেয়। তারা বিশ্বাস করে এই বরফ শীতল ঠাণ্ডা হাওয়া তাদের বাচ্চাদের আরও বেশী সহনশীল করে তুলবে। এবং বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
ভিয়েতনাম
ভিয়েতনামের শিশুরা কখনােই বিছানায় প্রস্রাব করে না। সেখানকার বাবা-মায়েরা তাদের বাচ্চাদের তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্রাব করার ট্রেনিং দেয়। মায়েরা যখনই বুঝতে পারে বাচ্চার প্রস্রাব করার সময় হয়েছে তখনই তারা মুখ দিয়ে এক ধরণের শব্দ করে। জন্মাবার পর থেকে এই শব্দ শুনে বাচ্চারা এতােটাই অভ্যস্ত হয়ে যায় যে, নয় মাস বয়স হতেই এই শব্দ শুনলেই তারা বুঝতে পারে তাদের প্রস্রাব করার সময় হয়েছে।
কেনিয়া
কেনিয়ার মায়েরা কখনাে তাদের সন্তানদের চোখের দিকে তাকান না। কেনিয়ান মায়েরা নিজেদের বাচ্চাদের প্রতি খুব যত্নশীল হলেও তারা খুব কমই তাদের বাচ্চাদের চোখে দিকে তাকান। যখনই বাচ্চারা তাদের দেখে বেশি আহ্লাদ করে, মায়েরা তাড়াতাড়ি বাচ্চাদের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নেন। এ উপায়ে তারা বাচ্চাদের সহনশীলতার শিক্ষা দেন।
আর্মেনিয়া
আর্মেনিয়ার শিশুরা খুব অল্প বয়সেই তাদের পেশা পছন্দ করে ফেলে। আর্মেনিয়ান শিশুদের যখন সবেমাত্র প্রথম দাঁত উঠা শুরু করে, তখন বাবা-মায়েরা সেখানকার রীতি অনুযায়ী তাদের সামনে বিভিন্ন ধরনের খেলনা ছড়িয়ে রাখে। শিশুরা সেই খেলনাগুলাের মধ্যে থেকে যে খেলনাটার প্রতি বেশী আগ্রহ দেখায়, সেটাই শিশুদের ভবিষ্যৎ পেশা হবে বলে মনে করা হয়। যদি কোন বাচ্চা বইয়ের প্রতি আগ্রহ দেখায় তবে সে জ্ঞানী ব্যক্তি হবে। টাকা নিয়ে খেললে ব্যাংকার এবং ছুরি নিলে ডাক্তার হবে বলে মনে করা হয়।
মৌরিতানিয়া
মৌরিতানিয়ার বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানের মুখে থুতু মাখিয়ে দেয়। মৌরিতানিয়ার উওলােফ গােত্রের লােকেরা বিশ্বাস করে, তাদের থুতু তাদের সন্তানদের জন্য আশীর্বাদ মূলক। তাই তারা শিশুদের মুখে থুতু লেপে দেয়।
জাপান
জাপানের শিশুরা অনেক কিছুই খায়, কিন্তু তারা কখনো মােটা হয় না। জাপানি বাবা-মায়েরা তাদের বাচ্চাদের খাবারের প্রতি খুবই যত্নশীল। প্রতিবেলায় তাদের খাবারের সঙ্গে কি কি উপাদান থাকছে তা তারা খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখে।
ডেনমার্ক
ডেনমার্কে শিশুদের চুষার জন্য প্লাস্টিক বা রাবারের খেলনা নিপেলকে পেসিফায়ার বলা হয়ে থাকে। ডেনমার্কে শিশুদের বয়স যখন তিন বছর হয়ে যায় তখন তারা এই পেসিফিয়ার নিয়ে খেলা বন্ধ করে দেয়৷ তখন তারা সেটি ফেলে না দিয়ে বিশেষ এক ধরণের গাছের উঁচু ডালে সেগুলােকে ঝুলিয়ে রাখে। এভাবেই তারা তাদের ছােট্টবেলায় প্রিয় খেলার সাথীকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়।
ফিনল্যান্ড
ফিনল্যান্ডে শিশুদেরকে পুরু, শক্ত কাগজের বাক্সে ঘুম পাড়ানাে হয়। বাচ্চা জন্মাবার পর পর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ফিনল্যান্ডের বাবা-মায়েদের বাচ্চার দরকারি জিনিসপত্রে পূর্ণ একটি কাগজের বাক্স দেয়া হয়। আর দরকারি জিনিসপত্রে ভরা সেই বাক্সটি ফিনল্যান্ডি বাচ্চাদের প্রথম বিছানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।





Post a Comment