প্রাণঘাতী কোলন ক্যান্সার রোধ করবে হলুদ!
Odd বাংলা ডেস্ক: হলুদের বহু গুণের কথা প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের জানা। তবে তা যে ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে এমনটা অনেকেরই জানা নেই। সম্প্রতি গবেষকরা কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে হলুদের একটি উপাদানের কার্যকারিতার প্রমাণ পেয়েছেন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ডিএনএ ইন্ডিয়া।
হলুদের একটি উপদানের নাম কারকিউমিন। মানবদেহের ভেতর এটি কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে যুদ্ধ করতে পারে বলে জানা গেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
গবেষকরা জানিয়েছেন, হলুদের কারকিউমিন নানা খাবারের মধ্যে থাকলেও তা কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। গবেষণায় মূলত দুই ধরনের উপাদানের ব্যবহার করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো হলুদের কারকিউমিন, অন্যটি সিলিমেরিন। এ দুটি উপাদানকেই কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে মনে করছেন গবেষকরা।
এ বিষয়ে গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির দুজন গবেষক। তারা জানান, হলুদের কার্যকর একটি উপাদান হলো কারকিউমিন। এটি মসলাযুক্ত খাবারে থাকে। এ উপাদানটি ছাড়াও আরেকটি উপাদান সিলিমেরিন পাওয়া যায় কাঁটাগাছে। এ গাছটির নির্যাস সাধারণত পেটের সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
গবেষকরা কোলন ক্যান্সারের ওপর উপাদানগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে কোলন ক্যান্সারের মডেল তৈরি করেন। সেখানে কারকিউমিন ও সিলিমেরিন প্রয়োগ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায় উভয় উপাদানের একত্রে ব্যবহার কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কার্যকর। এগুলো কোলন ক্যান্সারের বৃদ্ধি রোধ করে এবং ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেয়। এছাড়া কোলন ক্যান্সারের কোষগুলোর মৃত্যুর হারও বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির গবেষক উথায়াশংকর ইজেকিয়েল বলেন, এ ধরনের উপাদান ব্যবহারে ক্যান্সার চিকিৎসা সুবিধাজনক। কারণ প্রচলিত পদ্ধতিতে যেভাবে কেমোথেরাপি প্রয়োগ করা হয় তাতে দেহে বিষাক্ত উপাদান সমস্যা সৃষ্টি করে। এ ছাড়া তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম নয়।
তিনি আরও বলেন, যদি উদ্ভিজ্জ উপাদানের সহায়তায় যদি কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায় তাহলে তাতে দেহের ক্ষতিও রোধ করা সহজ হবে।
তবে গবেষকরা বলেন, কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসায় কার্যকর হলেও এ উপাদানগুলো বাড়তি গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে যে কোনো ওষুধই ব্যবহার করা ক্ষতিকর। আর তাই উচ্চমাত্রায় যে কোনো উপাদান ব্যবহারে তাতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসায় এ পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য আরও কিছুদিন পরীক্ষানিরীক্ষা করা হবে। পরবর্তীতে সবকিছু ঠিক থাকলে তা কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যাবে।ব্যবসায়ীরাও প্রথম আলোকে বৈজ্ঞানিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি।





Post a Comment