Odd বাংলা ডেস্ক: ভ্যাকসিনের দাবিতে সোচ্চার হওয়ায় পুলিশের অমানবিক লাঠির বাড়ি খেতে হলো টিকা প্রত্যাশী মানুষকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর ৮ নম্বর মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার। ভ্যাকসিন নিতে আসা মানুষের অভিযোগ, কোউইন অ্যাপে নাম নথিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের ভ্যাকসিন দিতে আপত্তি তোলা হয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে। সেই থেকে শুরু হয় উত্তেজনা। অভিযোগ স্বজনপোষণের ফলেই বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত ভ্যাকসিন প্রাপকরা। এরপর রাস্তা অবরোধ করেন সাধারণ মানুষ।
পুলিশ অবরোধ তুলতে টিকা নিতে আসা মানুষের ওপর লাঠিচার্জ করে। লাঠির আঘাতে আহত হন ২ মহিলা সমেত বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। এই ঘটনায় তোলপাড় হয়ে যায় অশোকনগর এলাকা। অশোকনগর প্রজ্ঞানানন্দ মাতৃসদনের ঠিক পাশেই রয়েছে অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভা পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। যদিও পৌরসভার সূত্রে জানানো হয়েছে, এদিন ২০০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে বলে প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল এবং ভ্যাকসিন প্রাপকদের ফোন করে ডাকা হয়েছিল। যদিও এই বক্তব্য মানতে রাজি নন দূর দূরান্ত থেকে কোউইন অ্যাপে স্লট বুকিং করে আসা ভ্যাকসিন প্রাপকরা। তাঁদের অভিযোগ, পিছনের দরজা দিয়ে লাইন ছাড়াও বহু মানুষ এসে ভ্যাকসিন নিয়েছেন, কিন্তু স্লট বুকিং করেও তাঁরা ভ্যাকসিন পাননি। তাঁদের কেউ এসেছিলেন বারাসত থেকে, কেউ এসেছিলেন হাবড়া থেকে। সকাল থেকে শুধু হয়রানি বেড়েছে। লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সহ্যের বাঁধ ভেঙে যায় তাঁদের। এরপরই উত্তেজিত হয়ে তাঁরা অশোকনগর নৈহাটি রোড অবরোধ করেন। দু’টি জাতীয় সড়কের সংযোগকারী রাস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দীর্ঘ সময় অবরোধ চলায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় অশোকনগর ৮নং মোড়ে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের হটিয়ে দেয়।
ভ্যাকসিন নিতে এসে পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হন ২ জন মহিলা সহ বেশ কয়েকজন মানুষ। এরপর এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। পরবর্তীতেও অশোকনগর থানার পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। ভ্যাকসিন নিয়ে দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের হয়রানি চরম পর্যায় পৌঁছেছে। লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও দেখা যাচ্ছে লাইন সরছে না। ওদিকে লাইনে না দাঁড়িয়েও কিছু মানুষ ভ্যাকসিন পেয়ে যাচ্ছেন ঠিকঠাক। শাসক দলের বিরুদ্ধে এই স্বজন পোষণের অভিযোগ রয়েছে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই। আধার কার্ডের ওপর তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে সিল লাগিয়ে দিলে তবে ভ্যাকসিন মিলছে—এ দৃশ্য নিত্যদিন সবার চোখে ধরা পড়ছে। অভিযোগের পর অভিযোগ বাড়ছে।
শেষমেশ তৃণমূলের অফিস থেকে নির্লজ্জভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলছে বলে বহু এলাকা থেকে অভিযোগ এসে পৌঁছচ্ছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ বহু মানুষ। দিনে দিনে ক্ষোভ বাড়ছে। তা পরিণত হচ্ছে বিক্ষোভে। একদিকে করোনায় মৃত্যুসংখ্যা ফের বাড়ছে। অন্যদিকে ভ্যাকসিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার নতুন করে রাজ্যে করোনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার মৃত্যু সংখ্যা ছিল ৯, বুধবার তা বেড়ে হয় ১০। বৃহস্পতিবার মৃত্যু সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসার পরিকাঠামোর অভাবেই যে মৃত্যু বাড়ছে ক্রমশ, সে বিষয়ে একমত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ। ওদিকে করোনার সংক্রমণেরও কোনও কমতি নেই। বৃহস্পতিবার নতুন করে ৮১২ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা গত মাসখানেক ধরেই ৮০০-এর ঘরে রয়েছে। কখনো অতি সামান্য কমছে, কখনো তা বাড়ছে। ওদিকে মৃত্যুও কমছে না। টিকাও সহজে সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না, সব মিলিয়ে ঘোর বিপদেই রয়েছেন রাজ্যবাসী।





Post a Comment