Odd বাংলা ডেস্ক: বছর কুড়ির রবীন্দ্রনাথ। জোড়াসাঁকো থেকে এলেন নওগা জেলার পতিসরে। জমিদারি দেখাশুনা করতে। কাছ থেকে দেখলেন কৃষকদের জীবন। দেখলেন সুদখোর মহাজনদের কাছে নিরীহ কৃষকদের সর্বস্বান্ত হওয়ার দৃশ্য। এর থেকে মুক্তির উপায় কী? সে পথও বের করলেন তিনি।
সাল ১৯০৫। পতিসরের কালীগ্রামেই ভারতের প্রথম কৃষিব্যাঙ্ক গড়ে তুললেন। নামমাত্র সুদে শুরু হল টাকা ধার দেওয়া! এভাবেই রবি ঠাকুর হয়ে উঠলেন কৃষকদের সুখদুঃখের সঙ্গী।
চলার পথে প্রায়ই নানা বাধাবিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। খরচ সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। তখনই যেন ঘটে যায় এক অলৌকিক কাণ্ড। ১৯১৩ সাল। নোবেল পুরস্কার লাভ করেন বিশ্বকবি। পুরস্কারমূল্য ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা। তখনকার হিসাবে বেশ লোভনীয় সেই মূল্য।
রবীন্দ্রনাথ গেলেন পতিসরে। সমর্পণ করলেন পুরস্কারের প্রায় সমস্ত অর্থমূল্য। কালীগ্রাম কৃষিব্যাঙ্কের খাতায় এটাই সবথেকে বড় লগ্নি। বাকি টাকা ঢেলে দিলেন বিশ্বভারতী তৈরির কাজে।
ঠিক কতদিন চলেছিল এই কৃষিব্যাঙ্ক? এই নিয়ে রয়েছে দ্বিমত। গ্রামবাসীরা বলছেন ২০, আবার লেনদের হিসেব বলছে ২৫ বছর চলেছিল ব্যাঙ্ক। তবে শেষ পর্যন্ত যে ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল, তাতে সন্দেহ নেই। এমনকি লগ্নির টাকাও ফেরত পাননি রবীন্দ্রনাথ।
তবে দরিদ্র মানুষের হাত কখনও ছাড়েননি তিনি। মানুষের সুখ-দুঃখে সর্বদাই পাশে থেকেছেন। বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত।





Post a Comment