কালের কপোতলে হারিয়ে যাওয়া অসামান্য প্রতিভা গীতা দে, জন্মদিনে ফিরে দেখা তাঁর অভিনয় জীবন
Odd বাংলা ডেস্ক: দজ্জাল সৎ মা কিংবা শাশুড়ি, সিনেমার অভিনয়ে তিনি যেমনই হন আদতে চিরদিন থেকেছেন স্নেহশীল। আজ সেই গীতাদের জন্মদিন। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে গীতার অভিনেত্রী হয়ে ওঠার গল্পটাও অদ্ভুত। বাবা অনাদিবন্ধু মিত্র মেয়ের গান ও অভিনয়ে প্রবল ঝোঁক দেখে তাকে প্রতিবেশী গায়িকা রাধারানী দেবীর কাছে তালিম নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। তাঁর কাছেই গীতা দের প্রথম জীবনের নাচ, গান, অভিনয় শিক্ষা। ১৯৩৭ সালে মাত্র ছ’বছর বয়সে তিনি ‘আহুতি’ নামে একটি বাংলা ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। ছবিটির পরিচালক ছিলেন ধীরেন গাঙ্গুলি। এরপরের ছবি ‘দম্পতি’ এবং ‘নন্দিতা’। পরিচালকরা যথাক্রমে ছিলেন নীরেন লাহিড়ী এবং সুকুমার দাশগুপ্ত।
তিনি ১৯৫৪ সাল থেকে অল ইন্ডিয়া রেডিওর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং রেডিও নাটকে বেশ কয়েকটি পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তবে তাঁর শেষ নাটকটি ছিল বাদশাহী চাল (১৯৯৬); গণেশ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই নাটকটি উত্তর কলকাতার রঙ্গনা থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়েছিল।
তিনি নানা ধরনের চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি এই সকল চলচ্চিত্রে তাঁর বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য অধিক পরিচিত। এমনকি তাঁর অভিনয় কিংবদন্তি লরেন্স অলিভিয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
নেতিবাচক এবং হাস্যকর উভয় চরিত্রেই তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারাতে ষড়যন্ত্রকারী মায়ের ভূমিকায় তিনি দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন।
তাঁর দীর্ঘ কর্ম জীবন জুড়ে তিনি শিশির ভাদুড়ি, ঋত্বিক ঘটক, দেবকী বোস এবং সত্যজিৎ রায়ের মতো পরিচালকদের সাথে কাজ করেছিলেন। তিনি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিণীতা অবলম্বনে নির্মিত সঙ্গীতভিত্তিক বলিউড চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন; যেখানে তাঁর সাথে সাইফ আলী খান এবং বিদ্যা বালানের মতো অভিনয়শিল্পী অভিনয় করেছিলেন।
অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি টলি লাইটস এবং চিরদিনই তুমি যে আমারের মতো সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা অর্জন করেছিলেন
গীতা দে ২০০১ সালের ১৭ই জানুয়ারি তারিখে ৭৯ বছর বয়সে কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।





Post a Comment