শুধুই যৌনতা নয়, খাজুরাহের এই মন্দিরের আড়ালে লুকিয়ে নগ্ন নারীদের নির্মম কাহিনী


উজ্জ্বল মন্ডল: মন্দিরময় নগরী খাজুরাহ। সেই খর্জ্জুরবাহক বা খাজুরাহর অন্যতম প্রধান স্থাপত্যকীর্তি কান্ডারীয় মন্দির। কঠিন প্রস্তরখন্ডে গড়ে উঠেছিল যে মন্দির। যে পাথরের বুকে শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলেছিলেন কোমল নারীদেহকে। গড়ে তুলেছিলেন সুরসুন্দরীদের নগ্ন কিম্বা মিথুনমূর্তি। যে মূর্তিগুলি আজও মুহূর্তেই পুরুষের কামোদ্দীপনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। 

এসব মূর্তি গড়ে ওঠার পিছনে রয়েছে এক অন্ধকার এবং জীবন্ত ইতিহাস। মন্দিরের গায়ে সুসজ্জিত নগ্নিকা, সুরসুন্দরীদের মূর্তিগুলো মোটেও কাল্পনিক নয়। রক্তমাংসের 'মডেল'কে সামনে রেখেই গড়ে উঠেছিল এসব ভাস্কর্য। পাথরের বুকে এসব ভাস্কর্যের সঙ্গেই মিশে অসহায় নারীদের লজ্জা-কান্না। 

মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহ শহরের নিকটে অবস্থিত প্রাচীন হিন্দু ও জৈন মন্দিরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এটি। মহারাজ বিদ্যাধরের (১০১৭-১০২৯) রাজত্বকালে নির্মিত হয়েছিল কান্ডারীয় মহাদেব মন্দির। অজ্ঞাত বহু শিল্পীদের হাতে গড়ে উঠেছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্যখোদিত এই মন্দির। এই মন্দির কামোদ্দীপক ভাস্কর্যের জন্যও প্রসিদ্ধ। 

এটা জানলে সবচেয়ে অবাক হবেন যে, মন্দিরের এসব নগ্নমূর্তি কিন্তু শিল্পীদের কল্পনা ছিল না। সঙ্গমরত যুগলমূর্তিরা সবাই ছিলেন রক্তমাংসের মানুষ। শিল্পীরা জীবন্ত মডেল সামনে রেখেই নির্মাণ করতেন মূর্তি।

মডেল হিসাবে ব্যবহার করা হত সুরসুন্দরীদের। কারা এই সুরসুন্দরী? হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের "খাজুরাহ সুন্দরী" থেকে জানা যায়, মডেল বানাবার জন্য এসব নারী সংগ্রহ করা হত দাসের হাট থেকে। জানা যায়, কনৌজে বিশাল দাসের হাট ছিল। সেই দাসের হাটে নেপাল, কাশ্মীর, উৎকল রাজ্য, হিমালয়ের পাদদেশের চম্বা, দুর্গর (জম্মু), ত্রিগর্ভ (জলন্ধর), পূর্ব এবং উপকূল থেকে ক্রীতদাসীরা হাজির হত। মূর্তি নির্মাণের জন্য সেসব নারীদেরই কিনে আনা হত দাসের হাট থেকে। তারপর...

তারপর মডেল হিসাবে শুরু হত তাদের দুর্বীসহ জীবন। মিথুনমূর্তি অথবা নগ্নিকামূর্তি গড়ে তোলার জন্য তাদের নগ্ন হতে বাধ্য করা হত, অচেনা পুরুষের সাথে সঙ্গমরত অবস্থায় থাকতে হত, এমনকি মিলিত হতে হত পশুর সাথেও। এভাবেই মন্দিরের পাথর শুষে নিত অসহায় নারীদের চোখের জল। 

খাজুরাহর শ্রেষ্ঠ নিদর্শন আজ পর্যটকদের মনে বিস্ময় সৃষ্টি করে। বিস্ময়ে পর্যটকরাও বাহবা দেন চান্দেলরাজ বিদ্যাধরকে। কিন্তু এসবের মাঝে চাপা পড়ে যায় অসহায় উলঙ্গ নারীদের লজ্জা-কান্না আর ভাস্করদের কঠোর পরিশ্রম। রাতদিন এক করে যারা তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন এসব মূর্তি, তারাই আজ অজ্ঞাত। অপরিচিত।  


তথ্যসূত্র: খাজুরাহ সুন্দরী- হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
wikipedia              

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.