সাড়ে সাত লাখ বছর আগের রহস্যময় ‘স্টোন কলাম’
ODD বাংলা ডেস্ক: প্রকৃতি যেন অপার রহস্যের আধার। প্রতিনিয়তই আধুনিক যুগে মানুষ বিজ্ঞানের কল্যাণে অনেক অজানা রহস্যই জানতে পারে। বড় বড় ইমারত নির্মাণ করতে মানুষ কলাম তৈরি করে, তবে এটা জানলে অনেকেই বিস্মিত হবে যে, প্রায় সাড়ে সাত লাখ বছর আগে প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হয়েছিল রহস্যময় ‘স্টোন কলাম’।
‘স্টোন কলাম’ কলাম সম্পর্কে প্রথম জানা যায় গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে। ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রোলি লেকের জলাশয়ের কিছু সংস্কার কাজ শেষ হয়। এ কাজ শেষ হওয়ার পর ক্রোলি লেকের পূর্ব তীরে অদ্ভুত কলামের মতো গড়ন দৃশ্যমান হয়। স্টোন কলামগুলো দেখতে অনেকটা ধূসর বর্ণের। একটির সঙ্গে অন্যটির দূরত্ব প্রায় ১ ফুটের মতো। এ স্টোন কলামগুলো ২০ ফুট পর্যন্ত উঁচু। এগুলোর চারদিকে অনেকটা গোল আকৃতির দাগ রয়েছে। দেখে মনে হতে পারে মুরিশ মন্দিরগুলোর স্তম্ভের মতো। প্রথম আবিষ্কার হওয়ার পর কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছিলেন যে, এগুলো কেবল শৈলের অংশ। আবার কেউ কেউ বলেছিলেন, কলামগুলোর সঙ্গে ওই অঞ্চলের অতীতের আগ্নেয়গিরির সঙ্গে সংযোগ রয়েছে।
প্রাকৃতিক স্টোন কলামগুলোর উৎস নিয়ে সৃষ্টি হয় কৌতূহল। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির ভূতাত্ত্বিকগণ এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। এক্স-রে বিশ্লেষণ ও ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোস্কোপের সাহায্য নিয়ে বিশ্লেষণ, কলামগুলোর নমুনা পরীক্ষা করাসহ বিভিন্ন পদ্ধতি এবং সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে গবেষকরা দেখতে পান যে এগুলোর মধ্যে ছোট ছোট ফাঁকা জায়গা রয়েছে।
কলামগুলো মূলত প্রাকৃতিকভাবে খনিজ দ্বারা সৃষ্ট, যা ক্ষয় প্রতিরোধী। গবেষকদের ধারণা প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার বছর আগে সংঘটিত একটি বড় আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণের সঙ্গে এগুলোর সৃষ্টি ইতিহাস সম্পর্কিত। তাদের মতে, এই বিস্ফোরণটি মাউন্ট সেন্ট হেলেন্সে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের (১৯৮০ সালের ১৮ মে) চেয়ে ২ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল। যে কারণে ক্রোলি লেকের জলাধার ও লং ভ্যালি ক্যালডেরা তৈরি হয়েছিল। সৃষ্টির কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে এগুলো পুরোপুরি নরম শৈল দ্বারা আচ্ছাদিত ও দৃশ্যের অন্তরালে ছিল।
ক্রোলি লেকের পূর্ব পাড়ের দুই থেকে তিন হাজার বর্গ মাইলের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজারটি স্টোন কলাম রয়েছে। এগুলো বিভিন্ন আকারের। কিছু ধূসর এবং খুঁটির মতো সোজা, আবার অন্যগুলি লাল-কমলা এবং বাঁকানো বা কাত হয়ে আছে। এছাড়াও ভূমির সঙ্গে মিশে থাকা স্টোন কলামও রয়েছে, যেগুলো আপাত দৃষ্টিতে জীবাশ্মের মতো দেখায়।





Post a Comment