EXCLUSIVE: মানবদেহের অংশের বিরাট মার্কেট বিশ্ব জুড়ে

Odd বাংলা ডেস্ক: বছর দুয়েক ধরে ফ্রান্সের প্যারিস ডেস্কার্টেস ইউনিভার্সিটি খবরের খবরের শিরোনামে চলে এসেছে। কারণ শুনলে হাড়হিম হয়ে যায় ।ইউনিভার্সিটির ল্যাবরেটরি অনুসন্ধান করে পাওয়া গেছে বহু পচা-গলা মৃতদেহ। তার মধ্যে কয়েকটি আবার ইঁদুরে খাওয়া ।কোনোটার বা চোখ বিস্ফারিত! অত্যন্ত অযত্নে পড়ে থাকা এই বিপুলসংখ্যক মৃতদেহ এলো কোথা থেকে? স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে ;‘খুন নয় তো’! কিন্তু না,মৃত্যু খুব স্বাভাবিক নিয়মেই হয়েছে। জীবদ্দশায় তারা নিজেরাই অঙ্গীকার নিয়েছিলেন মৃত্যুর পর তাদের দেহ যেন এই ইউনিভার্সিটি’তে দান করা হয় ,অর্থাৎ মরণোত্তর দেহ দান ।

এমন মহৎ কাজের এইরকম করুণ পরিণতি দেখে আঁতকে উঠেছেন অনেকেই।রাগে ফুঁসছেন দেহ দান করে মৃতের পরিবার ।অনেক ক্ষেত্রে অনেক দেহ পাওয়াও যাচ্ছে না ।তদন্ত করে জানা গেছে এইসব দেহ নাকি চড়া দামে পাচার  হয়ে যায় বিদেশে। এই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসতেই গ্রেপ্তার হয়েছেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত জীববিজ্ঞানী ফ্রেডরিক  ও তিনজন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ।দেহ দান করা মৃত এক পরিবারের সদস্য কথায়,  “ আমাদের রীতিমত ভয় করছে ওই জায়গা দিয়ে যেতে ।প্যারিস শহরের ভেতর ওই বিশ্ববিদ্যালয় যেন আস্ত এক কবরস্থানে পরিণত হয়েছে।”

 এই  ঘটনায় প্যারিস শহরের অনেকেই দেহ দান করার সংকল্প নিয়ে করা নিয়ে দুবার ভাবছেন ।

তবে ক্ষীণ হলেও আশার আলো দেখচ্ছেন অনেকেই। সুইজারল্যান্ড বা আমেরিকার মতো দেহদান ও সেই সংক্রান্ত গবেষণায় এগিয়ে থাকা দেশে এই ঘটনায় তেমন প্রভাব পড়েনি। এখনো বহু মানুষ মরণোত্তর দেহদানের সংকল্পবদ্ধ ।সেখানকার ডাক্তাররাও অত্যন্ত যত্নসহকারে দেহগুলি কাটাছেঁড়া করেন যাতে মরদেহর সম্মান কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয় ।অনেক সময় গবেষণার কাজ শেষ হওয়ার পর মৃতের দেহকে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়ার পর  ভষ্মিভূত দেহবশেষ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ।

আমাদের  দেশেও মরণোত্তর দেহদানের প্রতি অনেকেই আগ্রহী। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু পিস্ হেভেনে দেহ দান করে যান। একি কাজ করেন একসময়কার লোকসভার স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় কিংবা জনসংঘ নেতা নানাজি দেশমুখ এর মত বহু বিখ্যাত মানুষ। আজও সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানমনস্ক বহু মানুষ মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করে যান। যদিও কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কারণে বহু মানুষ জীবদ্দশায় দেহদানের  ইচ্ছে প্রকাশ করে  গেলেও তা সম্ভবপর হয়নি। আবার প্যারিসের মতো ভয়ংকর ঘটনাও মানুষকে  নাড়িয়ে দিয়েছে ।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ডাক্তারদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার যাতে করে মরদেহের সম্মান সর্বাত্মক ভাবে বজায় রেখেই যেকোনো রিসার্চের কাজ করা যায় ।আশা করা যায় ডাক্তার ও বিজ্ঞানীরা তাদের কর্মক্ষেত্রের সমস্ত আদর্শ আচরণ বিধি মেনেই  তাদের গবেষণার কাজ চালাবেন ।প্যারিসের এই নির্লজ্জ ঘটনা ভুলে মানুষ আবার বিজ্ঞান ও ডাক্তারি ছাত্রদের পড়াশোনার সুবিধার্থে নিজের দেহ দান করার ব্যাপারে আগ্রহী হবেন। 



কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.