প্রাণের ঝুঁকি, তবু কেন ভেসে আসে তিমিরা?
ODD বাংলা ডেস্ক: বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, এক বার পাড়ে চলে এলে তিমিরা আর ফিরতে পারে না। একে ভারী চেহারা, তার উপর গোটা দেহে চর্বির স্তর। আচমকা পানির অভাবে দেহের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। তার উপর সমুদ্রের গভীরে জলস্তরের যে চাপ, পাড়ে এসে হঠাৎ তা চলে যাওয়ায় স্নায়ুতন্ত্রও জানান দেয়, মৃত্যু আসন্ন।
এ অবস্থায় কিছু প্রাণীকে সমুদ্রে ফেরত পাঠানো গেলেও প্রাণের ঝুঁকি থেকেই যায়। কারণ কিছু প্রজাতির তিমি সাধারণত দল বেঁধে থাকে। এরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখে শব্দ আদানপ্রদান করে। দলে কেউ বিপদে পড়লে সঙ্কেত পেয়ে বাকিরা তাদের সাহায্য করতে আসে। ফলে একই বিপদের মুখে পড়ে তারাও।
অনেক ক্ষেত্রে আবার দলনেতার মৃত্যুতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে তিমির দল। জেনেবুঝে মৃত্যুকেই বেছে নেয় তখন। অতএব এদের বাঁচাতে হলে একসঙ্গে সকলকে ফিরিয়ে দিতে হবে সমুদ্রে। সংখ্যাটা বেশি হলে যা অসম্ভব, বলছেন সমুদ্র বিজ্ঞানী ও তিমি-বিশেষজ্ঞ কুমারন শতশিবম।
কিন্তু গভীর সমুদ্রের বাসিন্দারা হঠাৎ সৈকতে এসে ভিড় করছে কেন? বেশ কিছু আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন সমুদ্রবিজ্ঞানীরা।
১) যে সব তিমি দল বেঁধে পরিবার নিয়ে থাকে, পাড়ে এসে গণমৃত্যুর সম্ভাবনা তাদের ক্ষেত্রে বেশি। কোনও এক জন ভুল করে পাড়ে চলে এলে, বাকিরাও একই কাজ করে। লং ফিনড পাইলট হোয়েলের পরিবারের সদস্য সংখ্যা কখনও কখনও হাজার ছুঁইছুঁইও হয়।
২) অনেক সময় খাদ্যের সন্ধানেও সমুদ্রতীরে চলে আসে এরা। কখনও আবার খুনি-তিমির ভয়ে পালাতে গিয়ে অজান্তেই বেছে নেয় মৃত্যুপথ। ক্রমশ ঢালু হয়ে সমুদ্রে এসে মিশে যাওয়া তীরও অনেক সময় দিকভ্রান্ত করে তিমিদের।
৩) নৌযানের গতিবিধির উপর নজর রাখতে তিমিদের মতো শোনার (সাউন্ড নেভিগেশন অ্যান্ড রেঞ্জিং) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নৌবাহিনীও। সেই শব্দ তরঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিমিদের মস্তিষ্কের কোষ। কখনও কখনও শরীরের ভিতরে রক্তপাতও ঘটে। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, নৌবাহিনীর শব্দতরঙ্গকে তিমি অনেক সময় বিপদ সঙ্কেত ভেবে ভুল করে।
৪) সমুদ্রের তলদেশ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল বের করার সময় মানুষ যে বিস্ফোরণ ঘটায়, তাতে তিমিদের স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভুল পথে চলে আসে তারা।
সমুদ্রবিজ্ঞানী অভিজিৎ মিত্রের কথায়, এক সঙ্গে এত তিমির মৃত্যু দুই ভাবে হতে পারে। কোনও ভাবে সামুদ্রিক তল ও উপরিভাগের স্তরের মধ্যে বদল (অনেক সময় ভূমিকম্পের জেরে হয়) ঘটলে জলের কম্পনমাত্রা বদলে যায়। এতে তিমিদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন তারা পাড়ের দিকে চলে আসে।
এ ধরনের তিমিদের খাদ্য মূলত ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন (ভাসমান আণুবীক্ষণিক উদ্ভিদ)। কোনও ভাবে বিষাক্ত ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন খেয়ে ফেললে মৃত্যু হতে পারে।





Post a Comment