ছুঁচালো দাঁতের অদ্ভুত ‘ফ্যাশন’
ODD বাংলা ডেস্ক: মানবের দুই ঠোঁট বিচ্ছিন্ন করলে দৃশ্যমান দুই পাটি দাঁত। যত্নেই নির্ভর করে দাঁতের সৌন্দর্য। দাঁতকে ঝকঝকে সাদা করতে প্রসাধনী ব্যবহারসহ লাখ লাখ টাকা খরচ করে মানুষ। কিন্তু মেনতাওয়াই উপজাতির মেয়েদের দাঁতকে আকর্ষণী বানাতে করতে হয় বিচিত্র কাণ্ড। এ উপজাতির মেয়েরা দাঁত ছুঁচালো করাকেই মনে করে হালের ‘ফ্যাশন’। তাদের সেই ফ্যাশন সম্পর্কে জানা গেছে চমকপ্রদ তথ্য।
কারা মেনতাওয়াই উপজাতি
মেনতাওয়াই ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশের একটি উপজাতি। তারা মেনতাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের আদি মানুষ। এরা দ্বীপের উপকূলীয় ও রেইন ফরেস্ট পরিবেশে একটি আধা-যাযাবরের মতো শিকারি জীবনযাপন করে। মেনতাওয়াই ইন্দোনেশিয়ার প্রাচীনতম উপজাতিগুলোর মধ্যে একটি। মেনতাওয়াইয়ের জনসংখ্যা প্রায় ৬৪ হাজার। এ উপজাতির লোকেরা তাদের জন্মভূমিকে ‘বুমি সিকেরেই’ বলে থাকে।
মেনতাওয়াই উপজাতির পুরুষ নয়, দাঁত সরু ও তীক্ষ্ণ করে নিজেদের আকর্ষণীয় বানায় মেয়েরা। তাদের বিশ্বাস, এটি তাদের পুরুষদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। দাঁত সরু করা মোটেও সহজ কাজ নয়। নিঃসন্দেহে কষ্টের কাজ। তবুও মেনতাওয়াই উপজাতির মেয়েরা স্বামীর কাছে নিজেদের আকর্ষণীয় করতে দাঁত সরু করে।
মেয়েদের বিশ্বাস
মেনতাওয়াই উপজাতির মেয়েরা মনে করে, দাঁত ছুঁচালোকরণে আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক রয়েছে। সুন্দর হতে তাদের শরীর ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত। তারা আরো মনে করে, যদি আত্মারা তাদের দেহের প্রতি অসন্তুষ্ট হয় তবে তা চলে গিয়ে আত্মিক জগতে পুনরায় যোগদান করবে। আত্মাকে বিচলন থেকে দূরে রাখতে ও তাদের দেহ ও আত্মাকে ভারসাম্য বজায় রাখতে মেয়েরা দাঁত তীক্ষ্ণ করে থাকে।
মেনতাওয়াই উপজাতির সন্ধান ও বিশ্বাস
বহু শতাব্দী ধরে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করেছিল মেনতাওয়াই উপজাতির লোকেরা। ১৬২১ সালে ডাচরা তাদের সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে। মেনতাওয়াই উপজাতির পূর্বপুরুষরা খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ থেকে ৫০০ অব্দের মধ্যে এ অঞ্চলে প্রথম বসবাস শুরু করেছিল বলে ধারণা করা হয়।
এ উপজাতির নিজের আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি রেওয়াজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। এগুলোর মধ্যে তাদের দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতা চর্চা, শরীরে ট্যাটু করা ও দাঁত তীক্ষ্ণ করার জন্য বেশি পরিচিত।
মেনতাওয়াই উপজাতির বাসস্থান-পোশাক
মেনতাওয়াই প্রথাগত বাসস্থানের নাম উমা, যা বাঁশের দ্বারা বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি। প্রতিটি উমা শিকার করা বিভিন্ন প্রাণীর মাথার খুলি দিয়ে সজ্জিত করা হয়। একটি উমাতে তিন থেকে চারটি পরিবার থাকতে পারে। অবশ্য ছোট পরিবারের জন্যও ঘর তৈরি করা হয়।
এ জনগোষ্ঠীর পুরুষদের প্রধান পোশাক হলো গাছের ছাল থেকে তৈরি কটি কাপড়। মেনতাওয়াইরা তাদের চুল ও কান, গলা ফুল দিয়ে সজ্জিত করে রাখে। নারীরা কোমরের চারপাশে কাপড়, খেজুর বা কলা পাতা থেকে তৈরি পোশাক পরে থাকেন।
মেনতাওয়াই উপজাতির ট্যাটু বিশ্বাস
মেনতাওয়াই উপজাতি নারী-পুরুষদের সারা শরীরে তারা ট্যাটু থাকে। মেনতাওয়াই উপজাতির লোকেদের শরীরের রং বেরঙের ট্যাটুগুলোর সঙ্গে তাদের রীতি-নীতি বিশ্বাসের সম্পর্ক আছে। তারা বিশ্বাস করে, এ ট্যাটু তাদের বস্তুগত সম্পদকে পরকালের জীবনে নিয়ে আসার অনুমতি দেয়। তাদের বিশ্বাস ট্যাটুর মাধ্যমেই পূর্বপুরুষদের পরকালে চিনতে পারবে। তাদের সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, তাদের পূর্বপুরুষদের আত্মা, আকাশ, ভূমি, সমুদ্র, নদী ও প্রাকৃতিক সবকিছুকে শ্রদ্ধা জানায়।





Post a Comment