পুরুষ-সঙ্গ ছাড়াই হাঙরের সন্তানপ্রসব, তাজ্জব বিজ্ঞানীরা

 


ODD বাংলা ডেস্ক: ইতালির সারদিনিয়া অ্যাকুয়ারিওতে সম্প্রতি ঘটে গেল এমনই আশ্চর্যকর ঘটনা। সেখানেই একটি বিশেষ ট্যাঙ্কে দশ বছর ধরে পৃথকভাবে রাখা হয়েছিল দুটি স্ত্রী হাঙরকে। সেই ট্যাঙ্কেই সম্প্রতি জন্ম নেয় স্মুথহাউন্ড শার্কের ছোট্ট শাবকটি। এই ঘটনায় এক কথায় তাজ্জব গবেষকরা। আর আশ্চর্যকর এই কাণ্ডের জন্য গবেষকরা নবজাতকটিকে চিহ্নিত করছেন ‘মিরাকল বেবি শার্ক’। 

তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও এই ধরনের অপত্য জন্মের ঘটনা দেখা গেছে বিভিন্ন কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ, মাছ-সহ প্রায় ৮০টি প্রজাতির মধ্যে। তবে হাঙরের ক্ষেত্রে এই ধরনের পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়া আদৌ হয় কিনা, সে ব্যাপারে এতদিন নিশ্চিত ছিলেন না গবেষকরা। এবার প্রমাণ মিলল তারও। 


বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় পার্থেনোজেনেসিস। মূলত, দুটি প্রক্রিয়ায় জন্ম নেয় এই ধরনের অপত্য। তার মধ্যে একটি হল অ্যাপোমিক্সিস। গাছের কলম তৈরি কিংবা ডাল কেটে চারা তৈরি প্রক্রিয়াই হল অ্যাপমিক্সিস। এই পদ্ধতিতে সরাসরি অভিভাবকের ক্লোন বা প্রতিরূপ হিসাবে জন্ম নেয় অপত্য। অন্য পদ্ধতিটি হল, অটোমিক্সিস। শুক্রাণুর অনুপস্থিতিতে অপত্যের জন্মের পিছনে দায়ী এই প্রক্রিয়াটিই। ইতালিতে সদ্য জন্ম নেয়া হাঙর শাবকটির জন্মের কারণও অটোমিক্সিসই। 


প্রচলিত বিজ্ঞান অনুযায়ী, ডিম্বাণু শুক্রাণুর দ্বারা নিষিক্ত না হলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় প্রজনন প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, অপত্যের জন্মের ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষ উভয়ের ভূমিকাই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই প্রচলিত ধারণা ভেঙেই এবার জন্ম নিল ছোট্ট একটি হাঙর শাবক। না, তার কোনো পিতা নেই, বরং সম্পূর্ণ মাতৃদেহের ডিম্বাণু থেকেই জন্ম তার।


গবেষকরা জানাচ্ছেন, অপরিপক্ক অবস্থায় হাঙরের ডিম্বাণু কাজ করে অনেকটা শুক্রাণুর মতো। ফলে পরিণত ডিম্বাণুকে তা নিষিক্ত করতে সক্ষম। এই ঘটনাই ঘটেছে মিরাকল বেবি শার্কের ক্ষেত্রে। তবে অপত্যের জন্মের সময় পুরুষ সঙ্গীর অভাব থাকার জন্য, নবজাতক হাঙরটি মূলত তার মায়েরই ক্লোন বা প্রতিরূপ। যদিও অপরিপক্ক ডিম্বাণু শুক্রাণুর মতো কাজ করায়, মায়ের থেকে জিনগত দিক থেকে সামান্য পৃথক হাঙর শাবকটি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.