মহামারীর ইতিহাসে এই প্রথম, করোনায় মৃত্যু-শূন্য এই শহর
ODD বাংলা ডেস্ক: ২০২০ সালে ভারতের বুকে আছড়ে পড়েছিল করোনা মহামারী। তারপর থেকে এই প্রথম মুম্বই শহরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য। রবিবার বৃহন্মুম্বই পুরসভার পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে আক্রান্ত একজনেরও মৃত্যুর খবর মেলেনি মুম্বই শহরে। যা নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তি বলেই মনে করছে চিকিৎসক মহল। একদিকে আক্রান্তের সংখ্যাও নিম্নমুখী। গত ২৪ ঘণ্টায় বাণিজ্য নগরীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬৭ জন।
বৃহন্মুম্বই পুরসভার কমিশনার ইকবাল সিং চাহাল বলেন, 'মুম্বইকারদের জন্য এটি বিরাট খুশির খবর। পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের গোটা টিমকে অভিনন্দন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য এই দিন এসেছে।' এরপরই তিনি সকলকে সতর্ক করে বলেন, 'সকলকে অনুরোধ করব মাস্ক পরে থাকার জন্য। মুম্বইকে কোভিড মুক্ত করার জন্য সমস্ত করোনা বিধি মেনে চলতে হবে। এখনও পর্যন্ত যারা ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেননি, তাঁদের কাছে টিকা সম্পন্ন করে নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।'
বর্তমানে মুম্বইয়ের কোভিড চিত্র বেশ খানিকটা স্বস্তিদায়ক। ১.২৭ শতাংশ কমে গিয়েছে বাণিজ্য নগরীর পজিটিভিটি রেট। কমে গিয়েছে অ্যাক্টিভ কেসও। গত ২৪ ঘণ্টার রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে করোনায় চিকিৎসাধীনের সংখ্যা ৫০৩০ জন। বেড়ে গিয়েছে সুস্থতার হারও। এই মুহূর্তে মুম্বইয়ে সুস্থতার হার ৯৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বইতে মোট ২৮ হাজার ৬০০ টেস্ট হয়েছে।
গত একমাস ধরে মহারাষ্ট্রে কোভিডের একাধিক বিধিনিষেধে শিথিলতা আনা হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে বলেন, 'কোভিড বিধিতে একাধিক শিথিলতা আসায় দীপাবলির মরশমে ফের নতুন করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সকলকে অনুরোধ মাস্ক পরে থাকুন।' মহারাষ্ট্র কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডা. শশাঙ্ক যোশী বলেন, 'দিওয়ালির পর কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে, তবে তা তৃতীয় ঢেউ নয়।
২০২০ সালের মার্চ মাসের পর থেকেই কোভিডে বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল মুম্বই। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই ফের আছড়ে পড়েছিল সেকেন্ড ওয়েভ। দ্বিতীয় ঢেউ পর্বে মুম্বইয়ে করোনা গ্রাফ ক্রমশই ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা গিয়েছিল। একদিনে ১১ হাজার আক্রান্তেরও পরিসংখ্যান মিলেছিল সেই সময়। যা এখনও অনেকটাই নেমে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কেবলমাত্র মুম্বই নয়, সামগ্রিকভাবে মহারাষ্ট্রের কোভিড গ্রাফও স্বস্তির জায়গায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৫৩ জন। একদিনে মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৬৮২ জন।





Post a Comment