ছোট নাকের সামুদ্রিক সাপের খোঁজ, ‘বিলুপ্ত’ হয়েও আশা জাগাচ্ছে



 ODD বাংলা ডেস্ক: সম্প্রতি সমুদ্র পৃষ্ঠের ২২০ ফুট নিচে পুনরায় দেখা গেলো স্বল্প নাকের সমুদ্র সাপ। ধারণা করা হয়, ১৯৯৮ সালে এই প্রজাতির সাপকে "স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত" হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল।

পশ্চিমা অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশমোর রিফেতে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালানোর সময় এই চমকপ্রদ স্বল্প নাকের সমুদ্র সাপটি পুনরায় দেখতে পান। বিজ্ঞানীরা জানান, এই প্রজাতির সাপকে "স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত" ঘোষণা করা হয়েছিলো। এই জলপাই রঙের প্রাণীগুলো এলাপিডে পরিবারের সদস্য। অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত সাপ যেমন-কোবরা, তাইপান এবং যে সাপগুলো মৃত্যু ঘটায়। মূলত এই সাপগুলো নিউরোটক্সিক বিষ ইনজেকট করতে সক্ষম।


ভাগ্যক্রমে, যে বিজ্ঞানীরা সমুদ্র গভীরে সাপটিকে চিহ্নিত করেছিলেন তারা "উন্নত রোবোটিক প্রযুক্তি" সহ একটি গবেষণা জাহাজের অভ্যন্তরে ছিলেন। যা বিষাক্ত বিলুপ্তপ্রায় এই সরীসৃপ থেকে নিরাপদ ছিল। পরবর্তীতে তারা অস্ট্রেলিয়ান মেরিন সায়েন্সের ইনস্টিটিউটের সাপ বিশেষজ্ঞ ব্লাঞ্চ ডি'আনাস্টাসির সঙ্গে তাত্ক্ষণিক যোগাযোগ করে তথ্যটি জানান।


স্বল্প নাকের সমুদ্রের সাপগুলো একসময় অ্যাশমোর রিফ অঞ্চলে প্রচুর দেখা যেত। ডি'আনাস্টাসি জানা যে, ১৯৭০ এর দশকে এই প্রজাতির সাপগুলো বিলীন হতে শুরু করে এবং ২০১০ এর দশকের গোড়ার দিকে একেবারে বিলীন হয়ে যায়। তকহ্ন সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীরা এই "নিম্নমুখী প্রবণতা" নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন।


নিউজউইক জানান, যদিও এই প্রজাতিগুলো বিলুপ্ত হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল, তারপরও অ্যাডেলয়েড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সরীসৃপ পরিবেশবিদ কেট স্যান্ডার্স এবং তার দলটি ২০১৬ সালে উপকূলে এই প্রজাতির সাপের দেখা পেয়েছিলেন বলে জানান। তবে কেটের দলটির তথ্য অনুযায়ী, স্বল্প নাক সমুদ্র সাপগুলোর মাথার আকার থেকে অ্যাশমোর রিফের মধ্যে থাকা রিফ সাগরের সাপগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা ছিল। বলা চলে, এটি একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির সমুদ্র সাপ।


অ্যাশমোর রিফের মধ্যে পাওয়া স্বল্প নাকের সাপটি সমুদ্রের ২২০ ফুট নিচে অবস্থিত ছিল, যেখানে খুব কম সূর্যের আলো পৌছায়। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা জেনেটিক টেস্টিং দিয়ে এই সাপের উপর তাদের গবেষণা আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.