কন্যা সন্তানই স্বয়ং লক্ষ্মী, নিজের মেয়েকেই লক্ষ্মীরূপে পুজো করলেন বাবা

ODD বাংলা ডেস্ক: কন্যা সন্তান হয়েছে? বংশ রক্ষা হবে কীভাবে? এ প্রশ্ন কেবল গ্রামে-গঞ্জের মানুষের বললে ভুল বলা হবে, খাস বড় শহরের মানুষও এমন ধ্যানধারণা পোষণ করেন।কিন্তু গেরস্থের ঘরে কন্যা-সন্তানই লক্ষ্মী! আ এই ধারণা নিয়েই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় নিজের মেয়েকে লক্ষ্মীরূপে পুজো করে অনন্য নজির গড়লেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা দেবাশিস বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী মিতালী বিশ্বাস।

স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্মী দেবাশিস বিশ্বাস ও মিতালি বিশ্বাসের একমাত্র কন্যা বছর দশেকের দেবাদৃতা এদিন লক্ষ্মী সেজে এক হাতে পদ্ম আর অন্য হাতে কলস নিয়ে রাজসিংহাসনে বসে একেবারে পুরোহিতের হাত থেকে পুজো নিলেন। আর জ্যান্ত লক্ষ্মীপুজো করে নিজেকে ধন্য মনে করছেন পুরোহিত শ্যামল মুখোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘সকল মেয়েই মায়ের মত। তাই সাক্ষাৎ দেবী লক্ষ্মীকে এখানে পুজো করা হল।’ 

দুর্গাপুজোয় যেমন কুমারী পুজো হয়, ঠিক তেমনই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় কুমারী লক্ষ্মীর পুজো করে অনন্য নজির গড়ল কৃষ্ণগঞ্জের বিশ্বাস দম্পতি। যদিও মেয়েকে লক্ষ্মীরূপে পুজো করার বিষয়ে একেবারে গোড়ায় পরিবারের সম্পূর্ণ সমর্থন পাননি দেবাশিস। তিনি জানান, মেয়েকে লক্ষ্মীরূপে পুজো করার কথা বাড়িতে বললে পরিবারের সকলে অবাক হলেও কেউ আপত্তি করেনি। ফলে মেয়েকে পুজো করার ব্যাপারে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিলে পরিবারের অন্যান্যরাও সমর্থন জানান। 

নাতনিকে লক্ষ্মী রূপে পুজো করে বৃদ্ধ ঠাকুমা দেবাদৃতাকে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করতে গিয়ে কেঁদেই ফেললেন। আর ঠাকুরদা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, তাঁদের প্রিয় আদরের নাতনি সাক্ষাৎ লক্ষ্মী রূপে পূজিত হচ্ছে। কৃষ্ণগঞ্জের শ্যামনগর গ্রামে জ্যান্ত লক্ষ্মীকে দেখতে গ্রামের অনেক মানুষ ভিড় জমিয়েছিল বিশ্বাস বাড়িতে। মা, বাবা থেকে শুরু করে দাদু, ঠাকুমা এমনকি পিসিও জ্যান্ত লক্ষ্মীর চরণে পুষ্পাঞ্জলী দিয়ে নিজেদের ধন্য মনে করলেন।ওআজকের সমাজে যেখানে আজও ঋতুমতী মেয়েকে পুজোর অনুষ্ঠানে ব্রাত্য করে রাখা হয়, সেখানে কার্যত নজির গড়লেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা দেবাশিস বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী মিতালী বিশ্বাস।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.