২৫ লাখ খরচ কর‌লেই ঘোরা যা‌বে পৃথিবীর প্রায় চার ভাগের এক ভাগ

 


ODD বাংলা ডেস্ক: ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথে চলাচলকারী বিলাসবহুল একটি ট্রেন হচ্ছে গোল্ডেন ঈগল ট্রান্স সাইবেরিয়ান এক্সপ্রেস। এই ট্রেনটিকে বলা হয় হোটেল অন হুইলস। ট্রেনটির আভিজাত্য এবং রাজকীয় ভ্রমণ ব্যবস্থা প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটকদের এই রুটে ভ্রমণ করতে আকৃষ্ট করে। ট্রেনটি রাশিয়ার মস্কো থেকে ভ্লাদিভোস্টকের মধ্যে চলাচল করে থাকে। 


১৫ দিনের এই ভ্রমণে সর্বমোট ৮টি টাইম জোন পার করতে হয় এবং পাড়ি দিতে হয় উড়াল পর্বতমালা। ছয় হাজার ৮৭৫ মাইলের এই ভ্রমণ পুরো পৃথিবী ভ্রমণের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ। যাত্রা শুরুর পরপরই যাত্রীরা পায় একটি ওয়েলকাম ডিনার। গোল্ডেন ঈগল ট্রান্স সাইবেরিয়ান এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে এই ডিনারে থাকে বিশেষ ধরনের মুখরোচক সব খাবার। 


পুরো যাত্রাপথে থাকেন একজন ডাক্তারও। যাত্রা শেষে একই সঙ্গে রয়েছে একটি ফেয়ারওয়েল ডিনারের আয়োজন। এর বাইরে প্রতিদিন থাকছে কম্প্লেমেন্টারিটি, কফি এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী ড্রিংস। ট্রেনটির ইমপেরিয়াল সুটে রয়েছে ১২০ বর্গ ফুটের মতো জায়গা। যেটি প্রস্থে ছয় ফুট এবং দৈর্ঘ্যে ১৭ ফুট। সুইটে রয়েছে একটি বড় কিং সাইজ বেড, বসার জন্য সোফা, আনুষঙ্গিক নানা সুবিধাসহ একটি ওয়াশরুম ও ড্রেসিং টেবিল।


মনিটরে পুরো যাত্রাপথ দেখার সুবিধা আছে। ট্রেনটির গোল্ড ক্লাস কেবিনগুলোকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে আরামদায়ক রেল কেবিন। প্রতিটি বগিতে রয়েছে পাঁচটি করে গোল্ড ক্লাস কেবিন। ছয় ফুটের ডাবল সাইজ কেবিন বেডের সঙ্গে রয়েছে এয়ারকন্ডিশন সিস্টেম। যার জন্য জনপ্রতি খরচ পড়বে ৩৭ হাজার ৯৯৫ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ৩৩ লাখ টাকা।


সিলভার ক্লাস কেবিনে গোল্ড ক্লাস কেবিনের যাবতীয় সব সুবিধাই বিদ্যমান। শুধু এর বেডগুলো কিছুটা ছোট। এলসিডি মনিটরে থাকছে পুরো যাত্রাপথ দেখার সুবিধা। জনপ্রতি খরচ পড়বে ২৮ হাজার ৪৯৫ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। সব ধরনের কেবিনেই থাকছে পারসোনাল হেক্সেট। ভ্রমণ পথে যে কোনো ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অতিক্রম করলে সেগুলো নিজের কেবিনে বসেই বিবরণীসহ শোনা যাবে। 


প্রতিটি কেবিনেই থাকছে পুরো ভ্রমণের উপর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী। থাকছে ট্যুর ম্যানেজারের সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ এবং একজন ট্যুর গাইড। প্রতিটি বগিতে থাকছেন একজন করে অ্যাটেন্ডেড। যিনি যাত্রীদের সব প্রয়োজন দেখার জন্য ২৪ ঘন্টা কাজ করে যাবেন। পুরো ট্রেনটিতে রয়েছে দুটি রেস্টুরেন্ট। গোল্ডেন ঈগল ট্রান্স সাইবেরিয়ান এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করলে অবশ্যই বৈকাল হ্রদের ফিশ ফ্রাই খেতে কেউ ভুল করে না। সঙ্গে রয়েছে নামিদামি ওয়াইন। 


ট্রেনের ভেতরে লাঞ্চ কারের সঙ্গে একটি বার রয়েছে। এই বারে নিজের পছন্দমতো পানীয় পেতে পারে যাত্রীরা। ট্রান্স সাইবেরিয়ান এক্সপ্রেসে প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে নির্ধারিত সময়ে ব্রেকফাস্ট এবং ইভেনিং মিল দেয়া হয়। লাঞ্চের সময় সবাইকে রেস্টুরেন্টে যেতে হয়। যাত্রীরা চাইলে রিজেওনাল ফুড থেকে শুরু করে যেকোনো ইন্টারন্যাশনাল ফুড আইটেম নিয়ে খেতে পারে। আর আবহাওয়া ভালো থাকলে লেক বৈকালের ধারে একটি আফটারনুন বারবিকিউ পার্টিও উপভোগ করা যেতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.